আদা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

আমরা সকলেই জানি আদা আমাদের মানব দেহের অনেক উপকারী একটা জিনিস। প্রাচীনকাল থেকে আমাদের এই এশিয়া মহাদেশ সহ পৃথিবীর সকল দেশেই  মসলা ও প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে আদাকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
1100px



তবে যে কোন জিনিসই পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত খাইলে আমাদেরকে উপকারের জাগায় ক্ষতি হয়। তেমনি আদাও আমাদের নিয়মিত পড়ে মান অনুযায়ী খাইলে মানবদেহের জন্য অনেক উপকার। আবার অতিরিক্ত খাইলে অনেক ক্ষতি ও হতে পারে ।

আদাম মূলত আমাদের পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। প্রতিটি পরিবারের আদাকে মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
শুধু শুধু মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয় না বরং এটি আমাদের শরীরে ওষুধ হিসেবেও ব্যবহার করা হয় ।

২০০ গ্রাম আদাতে যে পরিমাণ পুষ্টি আছে

পুষ্টির উপাদান

 পুষ্টির পরিমাণ (২০০ গ্রামে)

 ক্যালরি

 ১৬০ কিলোক্যালরি

 ফাইবার

 ৪ গ্রাম

 কার্বোহাইড্রেট

 ৩৫.৫৪ গ্রাম

 প্রোটিন

 ৩.৬৪ গ্রাম

 চর্বি

 ১.৫ গ্রাম

 পটাশিয়াম

 ৮৩০ মিলিগ্রাম

 ভিটামিন সি

 ১০ মিলিগ্রাম

 ম্যাগনেসিয়াম

 ৮৬ মিলিগ্রাম

 ক্যালসিয়াম

৩২ মিলিগ্রাম

আদা আমাদের শরীরে কি কি উপকার করে

আমরা যদি নিয়মিত পরিমাণ মতো আদা খাই তাহলে আদা  আমাদের মানব দেহের অনেক উপকার করে।

  1. আমাদের হজমে সাহায্য করে।
  2. গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করে।
  3. বমি ভাব দূর করে।
  4. শরীরের  বাতব্যথা দূর করে।
  5. মেয়েদের ক্ষেত্রে মাসিকের ব্যথা দূর করে।
  6. হৃদপিণ্ড ও রক্তসংশ্লেষণ সকল বাধা দূর করে।
  7. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
  8. রক্তের সঠিক পরিমাণ শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

আদা খাওয়ার সঠিক নিয়ম:

আদা তো অনেক ভাবে খাওয়া যায়। তবে আমাদের শরীর কিভাবে তার শোষণ করে তার ওপর নির্ভর করে। 
আরো পরুনঃ কাঁচা আদা
কাঁচা আদা চিবিয়ে খেলে আমাদের শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকার হয়। 
সকালে ঘুম থেকে উঠে এক বা দের ইঞ্চি পরিমাণ আজাদ বেদে হাফ চামচ মধু দিয়ে খেলে তোমাদের জ্বর,সর্দি,কাশি গলা ব্যথা ভালো হয়।

আদার অপকারিতা বা ক্ষতি 

আমাদের শরীরের জন্য যে কোন জিনিসই পরিমাণ এর চেয়ে অধিকুযুক্ত সেবন করলে বা খেলে তা উপকারে জায়গায় ক্ষতি করে বসে। তেমনি আঁধার যদি নিয়ত পরিমাণ এর চেয়ে  বেশি খাওয়া হলে তা আমারে ছেড়ে ক্ষতি করতে পারে। গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে আদা না খাওয়াই হয় ভালো হয়।

প্রতিদিন কতটুকু আদা খেতে পারবো 

আমাদের সবার শরীরে জন্য পাওয়া যাবে না। যাদের পেতে পাথর বা যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খেয়েছেন তাদের একদমই আদা খাওয়া যাবেনা। 
আমাদের প্রতিদিন তিন থেকে চার গ্রামের বেশি আদা খেলে বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে যেমন: গলা জ্বলা বা বুকে ব্যাথা ইত্যাদি।

আদা খাওয়ার সঠিক সময় 

সকালে অর্থাৎ ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এর থেকে দেড় ইঞ্চি আধা কেটে নিয়ে তা কুচি করে এক চামচ বা হাপ চামচ মধুর সাথে খেতে হবে তাহলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে ।
যাদের ক্ষুধা কম লাগে বা হজমের সমস্যা আছে তারা খাবারে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট আগে এক থেকে দেড় ইঞ্চি আধা লবণ দিয়ে চিবাতে হবে।

চুল বা ত্বকের জন্য আদার ব্যবহার

আদা স্বাস্থ্য রক্ষা ও খাবারের পাশাপাশি আমাদের ত্বক ও চুলে সুন্দর্য করানোর জন্য বিশেষ ভূমিকা রাখে। আদায় থাকা বিশেষ উপাদান আমাদের ত্বক বা চুলের ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে চুলের গোড়া মজবুত ও সিল্কি হয়। আবার আমাদের অনেকের মুখে ব্রণ বের হয় কেমিক্যাল ইউজ করে ব্রণ ভালো হলেও ব্রণের দাগ গালে বা তকে থেকে যায়। আদাবেতে সাথে একটু মধু দিয়ে ব্রণের দাগে টিস্যু,পরিষ্কার নরমকাপড় বা তুলো দিয়ে ১৫ মিনিট রাখলে খুব তাড়াতাড়ি দাগ মুছে যাবে।

 আদা সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি

আমাদের সবার বাড়ি তো আর ফ্রিজ নাই । তাদের বাড়িতে ফ্রিজ  আছে তারা আগাগুলো পলিব্যাগ থেকে বের করে খোলস না ছাড়িয়ে পানি দিয়ে না ধুয়ে ছোট একটা কোথায় রাখে ফ্রিজে রাখতে পারেন। যাদের বাড়িতে ফ্রিজ নেই তারা আদা পানি দিয়ে না ধুয়ে খোলস না ছাড়িয়ে পলিব্যাগ করে রাখতে পারেন। দুটো পদ্ধতিতে ৫ থেকে ৬ সপ্তাহ ভালো থাকবে ।

শেষ কথা: লেখকের মন্তব্য

আদা নিয়ে এতক্ষণ যা যা বললাম সারমর্ম এটা কোন কঠিন বিজ্ঞাপন না বরং ধৈর্য আর সতর্কতার একটি সুন্দর সমন্বয়।
আপনি যদি প্রাকৃতিকভাবে ত্বক উজ্জ, দাগ স্কিন বা ঘরে বসে শরীর সুস্থ ও ফিট রাখতে চান তাহলে এই আদা হতে পারে আপনার একটি প্রধান উপকরণ। 


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপডেট আইডি ২৪ এরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url