সকালে কি খেলে গ্যাস হবে না
বর্তমানে আমাদের 95% মানুষের এখন গ্যাসের সমস্যা হচ্ছে। আমরা যদি সকালে
সঠিক খাবার খাই তাহলে গ্যাস, এসিডিটি, পেট ব্যথা ও পেট
ফোলা সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। তাহলে আমরা কিভাবে সঠিক
খাবার খাব চলুন এখন এটা জেনে নিনঃ
পোস্ট সুচিপত্র: সকালে কি খেলে গ্যাস হবে না
- গ্যাস হওয়ার কারণ
- সকালে যেসব খাবার খাবেন
- সকালে যেসব খাবার একদম খাবেন না
- গ্যাস মুক্ত থাকার জন্য কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
- আমাদের কিছু অভ্যাসপরিবর্তন করতে হবে
- কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন
- অন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং ভালো ব্যাকটেরিয়া
- হজম শক্তি বাড়ানো
- শেষ কথাঃ লেখকের শেষ মন্তব্য
গ্যাস হওয়ার কারণ
সকালে ঘুম থেকে উঠার পরে আমাদের পাকস্থলী দীর্ঘ সময় খালি থাকে। ফলে এই
সময় যে কারণ গুলোর জন্য আমাদের গ্যাস তৈরি হয়। রাতের খাবার ও সকালের নাস্তার
মধ্যে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে পাকস্থলীতে এসির জমে যায় ফলে গ্যাস তৈরি
হয়। অতিরিক্ত মসলা ও ভাজাপোড়া এইসব খাবার খেলে পেটে এসিড বাড়ে।
তাড়াতাড়ি খাবার খেলে বাতাসের সাথে বাড়তি বাতাস পেটে ঢুকিয়ে ফুলে
যায়।
যেসব খাবার খাবেন
সকালে ঘুম থেকে উঠে ১.৫-৩ গ্লাস পানি খাবেন ফলে
পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার হয় যেটা আমাদের শরীরে অ্যাসিড কমায়। রাতে
কালোজিরা খাবেন এতে করে আমাদের শরীরের গ্যাস কমায় এবং খাবার পরিপাক হতে
সাহায্য করে।
প্রচুর চিনি যুক্ত খাবার খাবেন না এবং প্রচুর পরিমাণ তেল যুক্ত খাবার খাবেন
না। পেপে খাবেন পেপেতে থাকা পাপাইন নামক অ্যাসিড থাকে যা আমাদের
শরীরের দ্রুত হজমে সাহায্য করে।
সকালে যেসব খাবার একদম খাবেন না
সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে চা বা কফি খাবেন খেলে পাকস্থলীতে
এসিড জমা হয়।ফলে গ্যাস হয় তাই খালি পেটে চা বা কফি খাবেন
না।
এবং ভাজাপোড়া
জাতীয় খাবার খাবেন না এতে প্রচুর পরিমাণ থাকে তেল থাকে। ফলে
আমাদের গ্যাসের সমস্যা ৮৫% বৃদ্ধি পায়। খুব টক জাতীয় খাবার খালি
পেটে খাবেন না এতে করে এসিড বেড়ে যায়।
গ্যাস মুক্ত থাকার জন্য কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
আবার যত বেশি পারবেন চিবিয়ে খাবেন। ফলে আমাদের পাকস্থলীর উপর চাপ কম
পড়বে। সকালে খাবার না খেলে পাকস্থলি এসিড ভিতরে আসতে আসতে আলসারের
ঝুঁকি তৈরি করে।
আরো পড়ুনঃ খাবার পর পরই শুয়ে পড়বেন না
হাটাহাটি করবেন না অন্ততপক্ষে
১০-১৫ মিনিট বসে রেস্ট নিবেন। রাতে অবশ্যই আপনার শরীরে জন্য পর্যাপ্ত
পরিমাণ ঘুমাবেন ৭-৮ ঘন্টা এতে করে আপনার হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে
অনেক ভালো কাজ করে।
আমাদের কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে
রাতে ঘুমানোর আগে অন্ততপক্ষে ১.৫-২ আগে রাতের খাবার খাবেন। এতে করে সকালে
ঘুম থেকে উঠার পর হালকা থাকে এবং এসিড কম হয়।
সকালে ঘুম থেকে উঠে১০-১৫ মিনিট হাটাহাটি বা ব্যায়াম করবেন অযথা মানসিক
চাপ বা দুশ্চিন্তা করবেন না এটা সরাসরি আপনার পাকস্থলীর পাচক রস ক্ষরণ
বাড়িয়ে দেয়।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন
প্রতিদিন সকালে ঘরোয়া উপায় পরিবর্তন এগুলো দেখা দেয় তাহলে দ্রুত
চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
১।খাবারের সাথে বা খাবার খাওয়ার পরে প্রচুর পরিমাণ জ্বালাপোড়া করা।
২। খাবার খাওয়ার পরপরই বমি হলে
৩। মলের রং অতিরিক্ত কালো বা লাল হলে
৪। কোন কারণ ছাড়াই জুতো ওজন কমতে থাকলে
আপনার যদি এসব সমস্যা হয় তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।
অন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং ভালো ব্যাকটেরিয়া
আমাদের অন্ত্রের প্রচুর পরিমাণ ভালো খারাপ ২ ধরনেরই ব্যাকটেরিয়া
থাকে। তবে ভালো ব্যাকটেরিয়া যদি কমে যায় তাহলে সকলেই তীব্র পেট
ফোলা শুরু হয়। সকালে হালকা টক দই সাথে পান্তা ভাত খেলে সরাসরি ভালো
ব্যাকটেরিয়া হয় অন্ত্রে ঢুকে যায়। কলা ও রসুন এ থাকা আঁশ ভালো
ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করে এবং অন্ত্র শক্তিশালী করে।
হজম শক্তি বাড়ানো
আমাদের শরীর খাবার যদি সঠিকভাবে হজম করতে না পারে তাহলে
সেটা এসিডে পরিণত হয় ফলে গ্যাস হয়। তাই আমাদের ভালো খাবারের
পাশাপাশি সেই খাবার হজম হচ্ছে কিনা সেটাও দেখতে হবে।
এতে করে মুখে থাকা পর্যাপ্ত লালা তৈরি হয় যা হজম
প্রক্রিয়া সহজ করে। খাবারের আগে ৪-৫ বার ধীরে ধীরে দীর্ঘশ্বাস নিবেন
এতে স্নায়ুতন্ত্র শান্ত হয় এবং পাকস্থলী খাবার হজমের জন্য প্রস্তুত করে
শেষ কথাঃ লেখকের শেষ মন্তব্য
আপনার যদি প্রতিনিয়ত গ্যাসের সমস্যা হয় তাহলে আমার এই নিয়ম মেনে চলুন দেখবেন
আস্তে আস্তে আপনার গ্যাসের সমস্যা একেবারে কমে গেছে। আমি এতক্ষণ যেগুলা
বললাম এগুলো যদি আপনি প্রতিদিন মেনে চলতে পারেন তাহলে শুধু গ্যাসই না আপনার
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে আপনি নিজেকে ফিট এবং সুস্থ মনে করবেন।



আপডেট আইডি ২৪ এরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url