পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে ভিসা চেক
বর্তমান যুগে আমাদের বাংলাদেশ থেকে অনেকেই প্রবাসে কাজের জন্য
যান। আপনারা যারা নতুন আপনারা কি জানেন কিভাবে ভিসা চেক করতে হয় কেন ভিসা
চেক করে নিবেন। যদি এখন পর্যন্ত আপনারা তা না জেনে থাকেন তাহলে চলুন সব
বিষয়ই জেনে নিন।
পোস্ট সুচিপত্র: পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে ভিসা চেক
- ভিসা চেক করার সহজ নিয়ম
- ভিসা কেন চেক করবেন
- ভিসা জাল বা ভুয়া এটা কিভাবে চেক করবেন
- কিভাবে অনলাইন ডাটা চেক করবেন
- ভিসার ক্ষেত্রে সতর্কতা
- সৌদি আরবের ভিসার ক্ষেত্রে
- দুবাই আর আরব এর ভিসার ক্ষেত্রে
- কাতারের ভিসার ক্ষেত্রে
- মালয়েশিয়া ভিসার ক্ষেত্রে
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
ভিসা চেক করার সহজ নিয়ম
বর্তমান যুগে প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে ভিসা চেক করার নিয়ম গুলো অনেক সোজা
হয়ে গেছে। আর এখন করার জন্য বারবার এজেন্সির কাছে ঘুরতে হয় না। আপনার
কম্পিউটার বা হাতে থাকা অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মাধ্যমে আপনি ঘরে বসেই
পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে ভিসা চেক করতে পারবেন। এবং কয়েক মিনিটেই দেখতে
পারবেন আপনার ভিসাটি আসল কি না নকল বা ভিসার কোন অবস্থায় আছে এখন।
ভিসা কেন চেক করবেন
মালয়েশিয়া বা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার জন্য আপনাকে আগে আপনার ভিসা
আপনাকে আগে চেক করে নেওয়া লাগবে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি
কাজ। আপনার ভিসা চেক করার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রধান কারণগুলোঃ
- প্রতারক থেকে রক্ষা অনেক এজেন্সি বা দালাল ভুয়া বা মেয়াদ উত্তীর্ণ হিসেবে প্রদান করে টাকা নিয়ে থাকে।
- আপনার ভিসার সাথে আপনার নাম, পাসপোর্ট নাম্বা্ পেশা ও মেয়াদ তথ্য সবকিছু ঠিক আছে কিনা সেটা দেখে নিবেন।
- আপনার ভিসাটি ট্র্যাপিং, প্রসেসিং, না ইসু করা হয়েছে তা ভালো করে দেখে নিবেন।
এই নিয়মে আপনার ভিসা মিলিয়ে নিলে তাহলে আপনাকে আর কোন প্রতারক বা দালালের কাঁধে করবেন না। হলে আপনার টাকাও সেভ থাকলে আপনার বিদেশযাত্রা সেভ হবে।
ভিসা জাল বা ভুয়া এটা কিভাবে চেক করবেন
আপনার ভিসাটি জাল না ভুয়া এটা যাচাইয়ের জন্য সবথেকে নির্ভরযোগ্য উপায় হল যে
দেশের ভিসা চেক করবেন ওই দেশে সরকারি পোর্টালে সরাসরি ডাটা চেক করা।
আরো পড়ুনঃ কোন দালাল বা এজেন্সি এর
দেওয়া ফাইল দেখে কোনভাবে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায় না। আপনার ভিসাটা কি
আসল না জাল। তাই অবশ্যই আপনার ভিসা দেশে সরকারি পোর্টালে মাধ্যমে চেক করে নিবেন একবার।
কিভাবে অনলাইন ডাটা চেক করবেন
আপনি যাদের ডাটা দেখতে চাচ্ছেন বা চেক করতে চাচ্ছেন তাদের অফিসিয়াল
ওয়েবসাইটে গিয়ে সঠিক পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে সার্চ দিবেন যদি সার্চ
দেওয়ার পরে যদি নো কথা দেখায় মানে
no recod found , not found বা invalid detalice এইসব কিছু
দেখায় তাহলে আপনার ভিসাটি জাল বা নকল হওয়া সম্ভব না অনেক বেশি
থাকে। আপনার বিষয়ে কাগজে থাকা কিউআর কোড আপনার হাতে থাকা ফোনের ক্যামেরা বা
কিউআর স্ক্যান দিয়ে চেক করবেন। স্ক্যান করার পর যদি দেখেন কোন ভুয়া
ওয়েবসাইট মানে কোন সরকারি ওয়েবসাইট না দেখায় বা কোন টেক্সট দেখায় তাহলে
বুঝে নিবেন আপনার ভিসাটি জাল বা ভুয়া । তাই দালালকে সম্পূর্ণ টাকা
দেওয়ার আগে আপনার বিষয়টি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দিয়ে চেক করে কনফার্ম হওয়ার পর
টাকা দিবেন।
ভিসার সতর্কতা
আপনি বিদেশে যাওয়ার আগে বা আপনার ভিসা সম্পন্ন হওয়ার আগে কোন দালালকে
বা এজেন্সিদের বেশি টাকা দিবেন না।
আরো পড়ুনঃ আগে আপনার ভিসার সরকারি ওয়েবসাইটে
চেক করার পরে টাকা প্রদান করবেন। তবে টাকা ক্যাশ অর্ডার না করে ব্যাংক বা
চেকের মাধ্যমে প্রদান করবেন আর আপনার রশিদটি অবশ্যই সংরক্ষণ
করে রাখবেন।
সৌদি আরবের ভিসার ক্ষেত্রে
আমাদের বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই প্রবাসে সৌদি আরবেই যায়। সৌদি আরবের ভিসা
চেক করার ক্ষেত্রেঃ
- আপনাকে প্রথমেই সৌদি আরবের সরকারি ওয়েবসাইটে হবে।
- প্রথমে আপনার হাতে থাকা ফোন থেকে বা ল্যাপটপ বা কম্পিউটার থেকে সৌদি মোফা ওয়েব সাইটে প্রবেশ করবেন।
- পেজের নিচে থাকা স্ট্যাটাস চেক অপশনে যাবেন।
- ড্রপ ডাউন মেনু থেকে আপনার পাসপোর্ট নাম্বার ডিলিট করবেন।।
- পাসপোর্ট নাম্বারের ঘরে আপনার সাথে পাসপোর্ট নাম্বারটি লিখবেন।
- তালিকা থেকে আপনার দেশটি সিলেট করবেন মানে যেই দেশ থেকে যাবেন।
- আপনি যেখান থেকে বিশাল প্রবেশ হচ্ছে তা নির্ধারণ করবেন। যেমনঃ ( আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে যান তাহলে আপনি বাংলাদেশে যেখানে ভিসার তৈরি করেছে ওই শহরের নাম লিখবে রাজশাহী বা ঢাকা যেখান থেকে ভিসা তৈরি করবেন সেই শহরের নাম লিখবেন। )
- আপনার ফোনে বা ল্যাপটপে মানে যে ডিভাইস থেকে আপনি চেক করতেসেন সেই ডিভাইসে একটি ভেরিফিকেশন কোড দিবে সেটি সঠিকভাবে পূরণ করবেন।
- সবশেষে সার্চ বাটনে ক্লিক ক্লিক করবেন।
সেখানে আপনার ছবি আর নাম এবং আপনার ভিসার বিস্তারিত মেয়াদসহ ডিজিটাল কপি চলে
আসবে।
আপনার ভিসা ইস্যু না হলে ভুবুয়া হলে invalid dhaka বা information
availabe এমন বার্তা দেখাবে।
দুবাই আর আরব এর ভিসার ক্ষেত্রে
দুবাই আর আরবের এর ভিসা চেক করার জন্য icp বা gdrfa ওয়েবসাইট ব্যবহার
করতে হয়।
আপনার হার্টে থাকা স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের মাধ্যমে icp বা gdrfa এই
দুইটার মধ্যে যে কোন একটা ওয়েবসাইটের মধ্যে ঢুকবেন।
- search reason এর মধ্যে ঢুকে passport informatin অপশন বেছে নিবেন।
- type হিসেবে ভিসা সিলেট করবেন।
- আপনার পাসপোর্ট নাম্বার এবং পাসপোর্ট এর মেয়াদের দাড়ি লিখবেন আপনি যেই দেশ থেকে যাচ্ছেন ওই দেশটি সিলেট করে রি ক্যাপচা পার করবেন এবং ছাড়সে ক্লিক করবেন তাহলে আপনার ভিসার সম্পূর্ণ ডিটিএলসি চলে আসবে।
কাতারের ভিসার ক্ষেত্রে
- কাতারে সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করবেন
- সার্চ থেকে ভিসা সার্চে যাবেন
- vusa inquiry বা printing অপশন বেছে নিবেন।
- আপনার পাসপোর্ট নাম্বার এবং তার ডেট নির্বাচন করবেন।
- সঠিক ক্যাপচা কোডটি দিবেন তাহলে আপনার ভিসা সম্পন্ন ডিটিএলস চলে আসবে।
মালয়েশিয়া ভিসার ক্ষেত্রে
মালয়েশিয়া ভিসা জন্য মালয়েশিয়ার সরকারী ওয়েবসাইটে ব্যবহার করবেন।
- মালয়েশিয়ায় ই-ভিসা চেক অপশনে যাবেন।
- চেক ভিসা অপশনটি সিলেক্ট করবেন।
- তারপর আপনার পাসপোর্ট নাম্বার এবং আপনার ভিসার মেয়াদ লিখবেন।
- ক্যাপচা কোড পুরন করে সার্চ এ ক্লিক করবেন তাহলে আপনার নিজের সম্পূর্ণ ডিটিএলস চলে আসবে।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
আপনি যদি বিদেশে ঘুরতে যাওয়া বা প্রবাসে যাইতে চাচ্ছে তাহলে আপনি ভিসা করার সময়
অবশ্যই মাথায় রাখবেন। ভিসাটি রিয়েল না ভুয়া সেটা চেক করে নিবেন এবং তার
দেব ঠিক আছে কিনা এসব বিষয় ঠিক করে নেওয়ার পরে টাকা দান করবেন। যেসব
নিয়মে বললাম এসব নিয়ম মেনে দেখে নিবেন তাহলে আশা করি আপনি কোথাও ধরা খাবেন
না।



আপডেট আইডি ২৪ এরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url