গর্ভাবস্থায় রক্ত শূন্যতা হলে কি খাবার খাওয়া উচিত


গর্ভকালীন সময়ে গর্ভবতী মা ও সন্তানের নিশ্চিত করার জন্য মায়ের শরীরে পর্যাপ্ত রক্তের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন। গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা একদিন সাধারণ এবং জটিল সমস্যা সঠিক খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে এই রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। 
গর্ভাবস্থায়-রক্ত-শূন্যতা-হলে-কি-খাবার-খাওয়া-উচিত


পোস্ট সুচিপত্র: গর্ভাবস্থায় রক্ত শূন্যতা হলে কি খাবার খাওয়া উচিত

গর্ভাবস্থায় এইসব খাবার খাবেন

  1. সামুদ্রিক মাছ, শিং , কই এবং ছোট মাছের প্রচুর আয়রন থাকে যার রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে অতিকার্যকর ভূমিকা রাখে।
  2. ফ্যাসি বা গরুর মাংসের সহজে শোষণযোগ্য হীম-আইরন থাকে তাছাড়া হাঁষ মুরগির মাংস কলিজার এবং ডিমে প্রচুর পরিমাণ আইরন রয়েছে।
  3. লাল শাক , কচু শাক, পালং শাক, কলমি শাক , ফুলকপি ও বাঁধাকপি।
  4. মসুর ডাল ,ছোলা , রাজমা, মটরশুঁটি।
  5. ফলমূল বেদনা-ডালিম, আপেল ,পেয়ারা, পাকা কলা ,খেজুর, কিসমিস ও আমলকি।
  6. ভাত খাওয়ার সময় বা  খাওয়ার পার লেবু, আমলকি ,কমলা, মালটা,  এইসব খাবেন। 

গর্ভাবস্থায় যেসব খাবার খাবেন না

  1. চা ও কফিতে থাকা ট্যাঁনিন খাবার থেকে আয়রন সৈশনে বাধা দেয় খাবার খাওয়ার এক ঘন্টা আগে বা পরে চাও বা কফি পান করবেন না।
  2. দুধ, দই বা ক্যালসিয়াম সাল্পিমেন্ট আয়রন শোষণের গতি কমিয়ে দেয় তাই আয়রনযুক্ত খাবার বা আয়রন ট্যাবলেট এর কাছে ক্যালসিয়াম গ্রহণ করবেন না অন্ততপক্ষে২-৩ ঘণ্টা বাধা রাখুন।
  3. আধসিদ্ধ ডিম বা হাফ বয়েল ডিম খাবেন না সালমোনেলা নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে যা যা পেটে সংক্রামক ও গর্ভপাত হতে পারে।
  4. কাঁচা বা আধা পাকা পেঁপে খাবেন না এবং আনারস পেতে থাকা ব্রোমেলেন জরায়ু সংকোচন ঘটিয়ে গর্ভপাতের ঝুঁকি অনেক বেশি বাড়ায় দেয়। 
  5. অতিরিক্ত কলিজা খাবেন না কলিজাতে প্রচুর পরিমাণ আইরন থাকলেও অতিরিক্ত মাত্রায় ভিটামিন এ থাকে যা গর্ভাবস্থায় প্রথমদিকে শিশুর জন্মের দুটি কথাতে পারে। 

কার্যকর রান্নার উপায় বা নিয়ম

বাড়িতে রান্না করার সময় টক জাতীয় খাবার বাদ দিয়ে সাধারণ তরকারি লোহার কড়ায়ে রান্না করলে খাবারের সাথে সামান্য পরিমান প্রাকৃতিক আয়রন যুক্ত হয়। রেফাইন করা চিনির বদলে পরিমিত পরিমাণ খাটি আখের গুড় খেলে আয়রনের চাহিদা কিছুটা মেটে। 

চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করবেন

চিকিৎসকের-পরামর্শ-গ্রহণ-করবেন


গর্ভাবস্থায়  শুরুতেই এবং নিয়মিত বিরোধীতে সি বি সি পরীক্ষা করে রক্তের হিমোগ্লোবিন এবং ফেরিটিন এর মাত্রা জেনে নিবেন। রক্তশূন্যতার মাত্রা অনুযায়ী চিকিৎসক উপযুক্ত আয়রন ও ফলিক এসিড ট্যাবলেট নির্ধারণ করে । চিকিৎসকের দেওয়া সঠিক সময়ে এবং নির্দিষ্ট মাত্রায় প্রতিদিন ঔষধ খাবেন। শরীরের ভিটামিন-বি ঘাটতি আছে কিনা তাও পরীক্ষা করে নিবেন। 

চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ কখন করবেন

খাদ্যভাস বা সাধারণ নিয়ম মেনে চলা সত্ত্বেও যদিঃ 
  1.  সামান্য হাটা চলা বা স্বাভাবিক কাজ করতে চরমোট হওয়া বা নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া। 
  2. হৃদপিণ্ড অস্বাভাবিকভাবে বেরে যাওয়া বা বুক ধরফর করা।
  3. মাথা ঘুরাঘ চোখে অন্ধকার দেখলে বসে থেকে দাঁড়ানোর সময় মাথা ঘুরা, ঝিমঝিম করলে বা অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়া মত অবস্থা হলে।
  4. হাতের তালু, ঠোট , চোখের ভেতরে অংশ বা মুখ অতিরিক্ত ফ্যাকাসে বা সাদাটে হয়ে গেলে।

 গর্ভাবস্থায় যেইসব ধাপ মেনে চলবেন

প্রথম ধাপ (১-৩ মাস) ঃ গর্ভধারণ নিশ্চিত হওয়ার পর প্রথমে রক্ত পরীক্ষা করে বেসলাইন হিমোগ্লোবিন জেনে নিবেন।
দ্বিতীয় ধাপ(৪-৬ মাস) ঃ এই সময় শরীরে রক্তে প্লাসমা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে রক্ত পাতলা হয়ে যায় তাই এই সময়ে পুনরায় রক্তের মাত্রা পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরী।
তৃতীয় ধাপ(৭-৯ মাস) ঃ প্রসবের আগে শরীরে পর্যাপ্ত রক্ত আছে কিনা এটা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাতে করে পোষক কালীন রক্তরক্ষণ নিরাপদে সামাল দিতে পারেন। 

জরুরী রক্ত ব্যবস্থা পদ্ধতি

গর্ভাবস্থাতেই নিজের সঠিক ব্লাড গ্রুপ ও আর এইচ ফ্যাক্টর জেনে নিন। প্রসবের সময় বা জরুরি প্রয়োজনে রক্ত দেওয়ার জন্য আগের থেকে ৩-৪ জন রক্তের দোনা ঠিক করে রাখবেন। রক্তশূন্যতার মাত্রা বেশি থাকলে প্রসবের জন্য এমন একটি হাসপাতাল বা ক্লিনিক নির্ধারণ করুন যাতে যেখানে সর্বক্ষণিক রক্তের ব্যবস্থা আছে যখন প্রয়োজন যত প্রয়োজন রক্ত নিতে পারবেন।

শেষ কথাঃ লেখকের শেষ মন্তব্য

লেখাটা শেষ করার আগে একটা কথাই বলতে চাই আপনি যদি গর্ভাবস্থায় থাকেন বা সন্তান নিতে চাচ্ছে । তাহলে অবশ্যই আমি যেভাবে বললাম আমার নিয়ম অনুযায়ী মেনে চলুন। আশা করি আর কোন সমস্যা হবে না আপনার বা আপনার সন্তানের।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপডেট আইডি ২৪ এরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url