বর্তমান যুগে আমাদের থাকা সুরক্ষিত ও নিরাপদ রাখার জন্য আমাদের সকলেরই একটি
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা খুবই জরুরী। এখন প্রশ্ন হলো আমাদের বাংলাদেশে
তো অনেক ধরনের ব্যাংক আছে তার মধ্যে আপনি কেন ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট
খুলবেন ইসলামী ব্যাংক আমাদের জন্য কি কি সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে এসব কিছু
জানতে পারবেন আমাদের আর্টিকেলটি যদি মন দিয়ে সম্পন্ন পড়েন সারা বাংলাদেশের সব
থেকে বড় শাখা রয়েছে ইসলামী ব্যাংক এবং সুযোগ সুবিধা আমাদের দিচ্ছে আর সবচেয়ে
বড় কথা হলো এই ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটি অনেক বিশ্বাসী এবং জনপ্রিয়
প্রতিষ্ঠান। আজকে আমরা আলোচনা করব
আপনি কেন ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খুলবেন। ইসলামী ব্যাংক আমাদের কি কি
সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে? আপনি কিভাবে ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খুলবেন বা অনলাইনে
আবেদন করবেন। ইসলামী ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আপনার কি কি দরকারি
কাগজপত্র বা ডকুমেন্ট লাগবে। আজকের আর্টিকেলটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ হতে
চলেছে তাই মন দিয়ে সম্পূর্ণ আর্টিকেল পড়ুন তাহলে আশা করি সব
বুঝতে পারবেন কেন ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খুলবেন আর এর সুযোগ সুবিধা কি কি দিচ্ছে
আমাদের।
পোস্ট সুচিপত্র: ইসলামী ব্যাংকের অনলাইন একাউন্ট খোলার সহজ উপায়
ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খোলার জন্য কিভাবে অনলাইন আবেদন করবেন
বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংকের জন্য আপনি
কিভাবে অনলাইন আবেদন করবেন তার নিয়ম। ইসলামী ব্যাংকে আবেদন করার জন্য আপনার হাতে
থাকা মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ দিয়ে প্রথমে ibblportal.islamibabankbd.com
ঢুকুন তারপরে সাইন আপ করবেন। প্রথমে আপনার ফার্স্ট নাম দিবেন তারপরে লাস্ট
নাম দিবেন এরপর আপনার পার্সোনাল বা ব্যবহৃত ইমেইল দিন কারণ আপনার এই ইমেইল
আইডি পরবর্তীতে আপনার ইউজার নাম হিসেবে ব্যবহার হবে তাই অবশ্যই আপনার পার্সোনাল
ইমেইল আইডি দিবেন।
তারপর সব শেষে আপনার সামনে একটি কোড আসবে সেই কোডটি লিখে সাবমিট দিবেন।
এভাবে রেজিস্টার করে নিতে পারেন অথবা iSmart app এর মাধ্যমেও সাইন আপ করা
যাবে। যেকোনো তথ্যের জন্য কল সেন্টারে ফোন দিয়ে সহযোগিতা নিতে পারবে দেশ বা
বিদেশ থেকে
0088 028331090
0088 09611016259
শুধু আমাদের বাংলাদেশ থেকে 16259 এই নাম্বারে।
এরপরে আপনার ইমেইলে একটি লিংক পাঠাবে ওই লিঙ্কে ক্লিক করলে আপনি পরবর্তী কাজ করতে
পারবেন।
আপনার বর্তমান ঠিকানা
স্থায়ী ঠিকানা
আপনার এনআইডি কার্ড বা ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য প্রদান করবেন
এরপর সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন।
এখন আপনার ১৭ টি অক্ষরের অ্যাকাউন্ট নাম্বার এবং ১৩ টি অক্ষরের কাস্টমার আইডি
প্রদান করবেন। আপনি যদি আরও অ্যাকাউন্ট যোগ করতে চান তাহলে অ্যাড অ্যাকাউন্ট
অপশনে ক্লিক করবেন। এরপর সাবমিট বাটনে ক্লিক করবেন। তারপর
কান্ট্রি বাটনে ক্লিক করে আপনি যে দেশ থেকে একাউন্ট খুলতে যাচ্ছেন সেই
দেশটির সিলেক্ট করবেন এবং আপনার রেজিস্ট্রেশন মোবাইল নাম্বারটি দিবেন মানে
যেই নাম্বার দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করছেন। তারপরে দুইবার আপনার পাসওয়ার্ড প্রদান
করবেন অবশ্যই
একটু কঠিন পাসওয়ার্ড দিবেন এবং মনে রাখবেন আবার এত কঠিন দিয়েন না যাতে আপনি
নিজেই মনে রাখতে না পারেন এবং সাবমিট বাটনে ক্লিক করবেন।এনাবল
ট্রানজেকশনাল সার্ভিসটি অন করবেন এবং আপনার মোবাইলে আশা ভেরিফিকেশন করতে
প্রদান করবেন এবং স্কিনে আসা প্রতি সঠিকভাবে লিখে সাবমিট করবেন। রেজিস্ট্রেশন
সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর Click Here to Download অপশন দিতে ক্লিক করবেন। ডেবিট
অ্যাপ্রুবাল এবং অথেনটকেশন একই পিডিএফ ডাউনলোড হয়ে যাবে।
পিডিএফ টি প্রিন্ট করে নিন ফর্মের প্রথম পেজে আপনার একাউন্টে ব্যবহৃত স্বাক্ষর
দিবেন।এবং দ্বিতীয় পেজ অর্থাৎ ডেভিড অ্যাপ্রুবাল ফর্মে শাখার নাম আপনার ফাস্ট
নেম লাস্ট নেম প্রফাইল আইডি প্রথম পেজে পাওয়া যাবে অ্যাকাউন্ট নাম্বার
কাস্টমার আইডি এবং স্বাক্ষর করে ফর্মটি আপনার শেখায় আপনি নিজে যায় জমা
দিবেন। আপনি যদি বিদেশ থেকে ইসলামী ব্যাংকে রেজিস্ট্রেশন করতে চান তাহলে
ইসলামী ব্যাংকের বিদেশী প্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ করবেন বিদেশি প্রতিনিধির তালিকা
ইসলামী ব্যাংকের ওয়েবসাইটে পেয়ে যাবেন।শাখায় আই ব্যাংকিং কর্মকর্তার
কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন অনুমোদন বা অনুমতি পাওয়ার পর আপনার ইমেইলে
একটি নিশ্চিতকরণ মেল পাঠিয়ে দিবে এরপর আপনার হাতে থাকা স্মার্ট
ফোনে বা ল্যাপটপ পিসিতে ibblportal আপটিতে আপনার ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড ও
স্কিনে থাকা কোডটি দিয়ে লগইন করে নিবেন।
ইসলামী ব্যাংকে ডেবিট কার্ড কিভাবে যোগ করবেন
আপনি যদি ইসলামী ব্যাংকে ডেবিট কার্ড যোগ করতে চান তাহলে সর্বপ্রথম আপনাকে
আপনার ফোনে সেলফিন অ্যাপ ইন্সটল করে ঢুকতে হবে তারপরে দেখবেন নিচের দিকে কার
নামের একটি অপশন আছে। সেখানে ক্লিক করবেন এবং ক্লিক করার পর দেখবেন নিচের দিকে
দেন দিকে প্লাস নামক অপশন আছে সেখানে আপনি ক্লিক করবেন। এরপর আপনি দেখতে
পাবেন আপনার কার্ডটি ডেবিট কার্ড পেইড কার্ড নাকি নরমালি ক্রেডিট কার্ড আপনি
যেহেতু ডেবিট কার্ড এড করতে যাচ্ছেন তাহলে ডেবিট কার্ড সিলেট করে
নিবেন। এরপর আপনি দেখতে পাবেন আপনার কার্ডে যে ছয়
অক্ষরের কোড আছে বা নাম্বার সেই নাম্বার এখানে বেছে নিয়ে চাপ
দিবেন। তারপরে কার্ডের লাস্টের বা শেষের চার অক্ষরের কোড দিয়ে
দিবেন এবং সঠিক দিবেন এরপরে আপনি যেই নাম্বার দিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন
সেই নাম্বার নিচে দিয়ে দিবেন অবশ্যই সঠিক নাম্বার দিবেন যেন ভুল না যায়।এরপরে
সাবমিট বাটনে ক্লিক করবেন তারপরে আপনার ফোনে দেখবেন একটি ওটিপি আসবে অবশ্যই সঠিক
কোডটি দিয়ে দিবেন। এরপর দেখবেন আপনার ফোনে নতুন একটি অ্যাপ ওপেন হয়ে গেছে
ওখানে দেখবেন ইংরেজিতে কিছু কথা লেখা আছে যেটা মূলত বলা হচ্ছে আপনাকে
ইসলামী ব্যাংকের হেল্পলাইনে কল দিতে বলতেছি এখানে কল দিয়ে ৪০-৫০ মিনিট ওয়েটিং এ
থাকতে হয় এমন সিচুয়েশনে অনেকেই পড়েছে তাই পরবর্তীতে লেখা আছে সিকিউরিটি পার
পেয়েছে আপনার যে কার্ড টি আছে এটি
ভেরিফাই করতে হবে। এরপরে বলতেছি ইসলামী ব্যাংকে হেল্পলাইনে ফোন দিয়ে
জানিয়ে দিতে তো আপনার হাতে যদি সময় থাকে আর ফোনে যদি টাকা থাকে তাহলে আপনি
৩০-৪০ মিনিট কল দিয়ে রাখতে পারেন অথবা আপনার বাসার পাশে যেখানে ইসলামী ব্যাংকের
শাখা রয়েছে ওখানে যায় তাদেরকে জানিয়ে দিতে পারেন যে আপনি এড করেছেন তাহলে হয়ে
যাবে।
কেন ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খুলবেন
বাংলাদেশের মধ্যে এত ব্যাংক থাকতে আপনি কেন ইসলামী ব্যাংকেই একাউন্ট খুলবেন? কারণ
ইসলামী ব্যাংক অনেক জনপ্রিয় এবং বিশ্বস্ত একটি প্রতিষ্ঠান আর আমাদের অনেক
সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে যেগুলো সুযোগ-সুবিধা অন্যান্য ব্যাংকে পাওয়া যায়
না। ইসলামী ব্যাংক সুদ গ্রহণ এবং সুদ প্রদান করে না কারণ এগুলো ইসলামে হারাম
ইসলামী ব্যাংক ইসলামী নিয়মাবলী মেনে ব্যাংকিং করে।
ইসলামী ব্যাংক ২-৫ জন সদস্য নিয়ে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিটি সদস্যের
সর্বোচ্চ ৪ লক্ষ টাকা করে২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করার সুবিধা
দিচ্ছে। ইসলামী ব্যাংকের বার্ষিক মুনাফার সর্বোচ্চ ৭% এবং কৃষি কাজের
ক্ষেত্রে কৃষি বিনিয়োগে মুনাফার হাড় সর্বোচ্চ ৪% এইসব সুযোগ
সুবিধা পাওয়ার জন্য আপনি ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খুলবেন। কৃষি কাজে
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নারী ও ক্ষুদ্র কৃষকের বিনিয়োগ পেতে যেসব কাগজপত্র
প্রয়োজন।
আবেদন ফ্রম পূরণ করতে হবে।
জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি।
দুইবার এর বেশি অন্য মানুষের গ্যারান্টি।
পেশার প্রমাণ পত্র কাগজ বা ব্যাংকের অন্যান্য চাহিদা মেনে সকল কাগজপত্র
জমা দিতে হবে।
ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে কত টাকা লাগে
কোন ব্যাংকে একাউন্ট খোলার জন্য ফ্রিতে একাউন্ট খুলতে পারবেন না কিন্তু ইসলামী
ব্যাংকে বাংলাদেশ পি এল সি তে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য সরাসরি আপনাকে কোন টাকা নেয়
না। তবে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য প্রাথমিক কিছু জমা দিতে হবে বা থাকতে হবে
আপনার একাউন্টে। আপনার একাউন্টে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা জমা রাখতে হবে।
তবে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক জমা সর্বনিম্ন মাত্র ১০০ টাকা থাকলেই
হবে। চলতি অ্যাকাউন্ট বা ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে আপনার
একাউন্টে সর্বনিম্ন প্রথম অবস্থায় ১০০০ টাকা থাকতে হবে। কৃষি কাজের
ক্ষেত্রে ও ক্ষুদ্র সঞ্চয় একাউন্ট এর ক্ষেত্রে আপনাকে সর্বনিম্ন মাত্র
১০-১০০ টাকা থাকলেই হবে।
ইসলামী ব্যাংকে সকল সুযোগ সুবিধা
বাংলাদেশের সকল ব্যাংকের মধ্যে সবথেকে আলাদা ব্যাংক হলো ইসলামী
ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের সুদের কোন নির্দিষ্ট পারসেন্ট নেই বরং মাস
শেষে সকল লাভ ক্ষতি হিসাব করে যে যত পরিমাণ টাকা রাখছে তার উপর মুনাফা
প্রদান করা হয়। ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে কৃষি কাজে জন্য ১০ টাকার
থেকে শুরু এটা অন্য কোন ব্যাংক দিতে পারে না সর্বনিম্ন ৫০০ বা১০০০ টাকা
ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখা লাগে সেইখানে ইসলামী ব্যাংক মাত্র ১০ টাকা দিয়ে
একাউন্ট খুলে দেয় শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০ টাকা
দিয়ে একাউন্ট খোলা যায়। ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ শর্তে ও স্বল্প
মুনাফা হারের বিনিয়োগ সুবিধা দেয় ইসলামী ব্যাংক। ডেবিট কার্ড ক্রেডিট
কার্ড সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে যারা বিদেশে পড়াশোনা করে তাদের কাছে টাকা
পাঠানোর জন্য খুব সহজ স্বর্থে একাউন্ট খুলতে পারবেন ইসলামী ব্যাংকে। আপনি
যদি নতুন ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে আপনাকে সহজ কিছু স্বর্থে এবং স্বল্প
মুনাফা হারে বিনিয়োগ প্রদান করে থাকেন তাদের জন্য।
ইসলামী ব্যাংকে ১ লক্ষ টাকার FDR রেট কত
ইসলামী ব্যাংকে আপনি যদি এক লক্ষ টাকা পিস ডিপোজিট করেন তাহলে আপনি কত টাকা
মুনাফা পাবেন। এই ফিক্স ডি বুঝি ডাব নিয়ে অনেক ভাবে রাখতে পারবেন।
FDR বা ফিক্স ডিপোজিট
মুনাফা
১ মাস
৫.২৫%
৩ মাস
৯.৫০%
১০০ দিন
৯.৬০%
৬ মাস
৯.৮০%
২০০ দিন
৯.৯০%
৩০০ দিন
৯.৯৫%
১ বছর
১০.০০%
২ বছর
১০.২০%
৩ বছর
১০.৩০%
এখন আপনার পছন্দমত যে কোন একটা সময় বেছে নিয়ে টাকা রাখতে পারবেন। তবে একটি
গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো এইসব কোন ব্যাংকেরই পার্সেন সব সময় এক থাকে না
প্রতিনিয়ত আপডেট করে থাকে। এখন কথা হলো আপনি কিভাবে এই আপডেট
পাবেন আপনি আপডেট পাওয়ার জন্য অবশ্যই আমারদের আপডেট আইডি ২৪ এর সাথেই
থাকবেন। আর না হলে আপনার আশেপাশে যেখানে ইসলামী ব্যাংকের শাখা আছে সেখানে
যাইয়া আপডেট নিতে পারবেন। আপনি ইসলামী ব্যাংকে ফিক্স ডিপোজিট করলে কত মাসে
কত টাকা মুনাফা পাবেন ১-১২ মাসের তালিকা ভালো করে দেখে নিন।
টাকা
১ মাস ৫.২৫
৩মাস ৯.৫০
৬ মাস ৯.৮০
১২মাস ১০.০০
১ লক্ষ্য
৪৩৭.৫০
২৩৭৫
৪৯০০
১০০০০
উৎসের কর -১০% / ১৫%
৬৫.৬৩
৩৫৬.২৫
৭৩৫
১৫০০
ট্যাক্স কাটার পর
৩৭১.৮৭
২০১৮.৭৫
৪১৬৫
৮৫০০
এই গুচ্ছের কর্তা হলো সরকার কি আপনার ব্যাংক থেকে যে টাকাটা পাবেন বা
লাভ হবে সেটা থেকে ১০ বা ১৫% সরকারকে দিতে হবে। এখন কথা হল কাদের ১০%
কাটা যাবে যারা একাউন্ট খোলার সময় ইনকাম ট্যাক্সে রশিট দেন না তাদের জন্য ১০%
টেক্স কাটা হবে। আর এখানে আমরা মূলত ১৫% এর ওপর ট্যাক্স এতে আপনাদের
দেখাচ্ছি কারন বেশিরভাগ মানুষই একাউন্ট খোলার সময় ইনকাম ট্যাক্স রশিট
দেখায় না। আর এখানে আপনার ট্যাক্স কাটা হইছে মূলত যে টাকা প্রফিট পাচ্ছি না
ওটার উপর
তো এখানে আমরা সবগুলো একই নিয়মে করছি। আর এই হিসাবটি হচ্ছে এখনকার
জন্য কোন কারণে যদি আপনি টাকা জমা দেওয়ার পরে ব্যাংকের রেটটি বেড়ে যায় তাহলে
আপনার কিন্তু প্রফিট বেড়ে যাবে আবার যদি কমে যায় তাহলে আপনার প্রফিট কমে
যাবে। আর অবশ্যই আপনাকে সব সময় জানতে হবে ব্যাংকের রেট কিরকম যাচ্ছে এই
জন্য আপনাকে আমাদের সাথে থাকতে হবে। গ্রাহক একাউন্ট খোলার জন্য আপনার যা যা
ডকুমেন্ট প্রয়োজন হবেঃ-
আপনার ভোটার আইডি কার্ড, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বা আপনার জন্ম
নিবন্ধন।
আপনার পাসপোর্ট সাইজ ২ কপি ছবি।
একজন নমিনি লাগবে যাতে করে আপনার অবর্তমানে সে টাকা উঠাইতে পারে
নমিনির ভোটার আইডি কার্ড, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বা জন্মনিবন্ধন।
নমিনির পাসপোর্ট সাইজ ১ কপি ছবি।
মূলত এইসব কাগজপত্র থাকলেই আপনি আবেদন করতে পারবেন আপনার বাসার পাশে বা কাছাকাছি
যে ইসলামী ব্যাংকে শাখা আছে ওখানে নিয়ে গেলে আপনি একাউন্ট খুলতে পারবেন।
এফডিআর মানে কি
উপরে এফডিআর এর রেট পড়ে হয়তো এফডিআর মানে কি? এটার একটু ধারনা পাইছেন
চলুন আরো ভালো করে বিস্তারিত জেনে নিন এফ বি আর বলতে মূলত পিস ডিপোজিট
বলে। একটা সময় উল্লেখ করে ডিপোজিট করা উক্ত সময়ের আগে আপনি চাইলেও উত্তোলন
করতে পারবেন না যেমন ধরেন আপনি ১০০০০ টাকা ৩ মাসের জন্য ইসলামী ব্যাংকে
ফিক্সড ডিপোজিট করলেন। এখন হঠাৎ করে আপনার১ বা ২ মাস পর হঠাৎ করে আপনার
কিছু টাকার প্রয়োজন হলো কিন্তু আপনি ব্যাংক থেকে ওইটুকু টাকা তুলতে পারবেন
না কারণ আপনার এখনো ৩ মাস হয় নাই আপনি অন্য জায়গা থেকে টান দিয়ে টাকা নিয়ে
আবার ঠিক৩ মাস পর ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে পারবেন। একেই বলে ফিক্সড
ডিপোজিট মানে একবার সময় নির্ধারণ করে দিয়ে জমা দিলে সেই সময় আশা পর্যন্ত
আপনি ব্যাংক থেকে টাকা উঠাইতে পারবেন না।
ব্যাংকের ভোল্ট কি
ব্যাংকের ভোল্ট বলতে মূলত ব্যাংকের ভেতরে থাকা অত্যন্ত সুরক্ষিত সিকিউরিটি
সম্পূর্ণ একটি রুম বা কক্ষ যেখানে ব্যাংকের সকল নম্বর টাকা সোনাদানা বা
গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র অনেক মূল্যবান সম্পদ সেখানে জমা রাখা হয়। এই
পুরো রুমটি রড, বালু, সিমেন্ট, দিয়ে ভালো করে ঢালাই করা আছে যাতে করে এটা সহজে
ভেঙে ফেলা না যায় যা চুরি ডাকাতি প্রতিরোধে সক্ষম। ভোল্টের দরজা অত্যন্ত
ভারী এবং এতে সময় ভিত্তিক লক দেওয়া থাকে এবং আধুনিক ও ডিজিটাল চাবি ব্যবহার করা
হয়।
ভোল্ট রুমের মধ্যে সব সময় সিসিটিভি ক্যামেরা, মোশন সেন্সর এবং এলার্ম
সিস্টেম লাগানো থাকে যাতে করে কেউ কোনো প্রকার অনৈতিক কাজ বা চুরি করতে লাগলে এটা
বেজে ওঠে ফলে সবাই জেনে যায় এবং তাকে ধরে ফেলতে পারে। ব্যাংকগুলো তাদের
গ্রাহকের ব্যবহারের জন্য ভোল্টের ভেতর সেভ লকার ভাড়া দিয়ে থাকে যেখানে আপনি
আপনার গহনা টাকা-পয়সা বা দরকারি গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র যেমন জমির দলিল এইসব
রাখতে পারেন এবং সেটা সর্বোচ্চ নিরাপদে থাকবে।
ইসলামী ব্যাংকে পার্সোনাল লোন নিবেন কিভাবে
লনের জন্য আবেদন করার জন্য আপনাকে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে চলুন এখন জেনে
নিন কি কি সত্য। আপনাকে বাংলাদেশী নাগরিক হতে হবে যদি প্রবাসে থাকেন তাহলে
বাংলাদেশি বৈধ প্রবাসী হতে হবে আপনার বয়স ২১ থেকে ৬০ বছরের চাকরির বা
ব্যবসার প্রতিষ্ঠানে নিম্নে ১ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এলনের
জন্য আবেদন করার জন্য আপনার কি কি ডকুমেন্ট থাকতে হবে বা কাগজপত্র থাকতে
হবেঃ-
আপনার এন আই ডি বা জাতীয় পরিচয় পত্র থাকতে হবে আর পাসপোর্ট সাইজ
ছবি।
আপনার আয়ের হার মানে আপনি কি করে আয় করেন সেটা ব্যবসা না চাকরি নাকি কৃষি
কাজে করে মাধ্যমে আয় করে থাকেন এটা সহজ কথায় থেকে টাকা উপার্জন করেন।
আপনি যদি একজন প্রবাসী হন তাহলে আপনার প্রবাসে যাওয়ার প্রমাণ পত্র থাকতে হবে।
একটি ব্যাংক স্টেটমেন্ট সাধারণত ৬ মাসের হলেই হবে।
আপনি ইসলামী ব্যাংক থেকে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিতে পারবেন এবং সর্বোচ্চ৫
লক্ষ টাকা ঋণ নিতে পারবেন। কিস্তির পরিমাণ ১২ মাস থেকে ৬০ মাস
পর্যন্ত অর্থাৎ ১ থেকে ৩ বছর আপনার ব্যাংক কিস্তি ও মুনাফার ব্যাংক নির্ধারণ করবে
তবে সাধারণত ৯% এর মধ্যে থাকে। এইসব ডকুমেন্ট থাকার পর আপনি কিভাবে লোনের
জন্য আবেদন করতে পারবেন যাতে করে আপনার লোনটি ক্যানসেল হবে না। আপনি আপনার
বাসার কাছে যেই ইসলামী ব্যাংকে শাখা আছে ওখানে যাবে যায় এ লোনের জন্য
ফরম পূরণ করবেন সঠিকভাবে যেন কোন ভুল না হয় তারপরে সেটা জমা দিবেন।
তারপরে আপনাকে কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হবে সেটা ব্যাংক বলে দিবে এরপর ব্যাংক
যাচাই করবে আপনার কাগজপত্র গুলো আবেদন যদি সঠিকভাবে হয় তাহলে আপনাকে৮-১২ কর্ম
দিবসের মধ্যে আপনার একাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দিবে। প্রবাসীরা এই
লোনে অনেক সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকে প্রবাসীরা লোনের জন্য দেশের প্রতিনিধিদের
সাথে যোগাযোগ করে আপনার এনাইড জাতীয় পরিচয় পত্র এবং আপনার প্রবাস জামাই
প্রমাণপত্র জমা দিলেই এই লোনটি আপনি নিতে পারবেন। আপনি যদি ১ লক্ষ টাকা লোন
নিয়ে থাকেন তাহলে এর মাসিক দেখে নিন ঃ-
সময়
মাসিক কিস্তি
মোট পরিশোধযোগ্য টাকা
১২ মাস
৮৭৫০ টাকা
১০৫০০০ টাকা
২৪ মাস
৪৭৫০ টাকা
১১৪০০০ টাকা
৩৬ মাস
৩৩৫০ টাকা
১২০৬০০ টাকা
৪৮ মাস
২৬৫০ টাকা
১২৭২০০ টাকা
৬০ মাস
২২২০টাকা
১৩৩২০০ টাকা
ইসলামী ব্যাংকে ক্রেডিট কার্ড কিভাবে যোগ করবেন
ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার জন্য অবশ্যই আপনার ইসলামী ব্যাংকে একটি একাউন্ট থাকতে
হবে। ক্রেডিট কার্ডের মধ্যে অনেকগুলো ভাগ আছে তো সর্বপ্রথম আমরা ভিসা
গোল্ড কার্ড সম্পর্কে জেনেনিন ভিসা গোল্ড কার্ডের আবার দুইটা ভাগ আছে
একটা একটা কার্ড ১ আর একটা কার্ড ২ ডুপ্লিকেট স্টেন ফি কাড ১ এ আপনি
সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা ক্রেডিটে ব্যবহার করতে পারবেন অর্থাৎ লোনের
মাধ্যমে। আর কার্ড২ আপনি ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্রেডিটে বা লোনের
মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারবেন এখানে আপনার
একাউন্টে টাকা না থাকলেও ব্যবহার করতে পারবেন এই ক্রেডিট কার্ডগুলোর
মাধ্যমে। কার্ড রেনুয়াল ও অ্যানুয়াল আপনি যদি এই ভিসা গোল্ড কারতি
প্রতিনিয়ত ব্যবহার করতে থাকেন তাহলে আপনাকে কিছু চার্জ কাটবে ২ হাজার
টাকা। আপনার প্রতি মাসে ১০০০ টাকা ফ্রি প্রদান করতে হবে অর্থাৎ আপনি যদি
আপনার ক্রেডিট কার্ডের লিমিটের অতিরিক্ত ১০০ টাকাও বেশি খরচ করে
ফেলেন তাহলে আপনাকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিপনা বা কেটে নিতে ব্যাংক আপনার
একাউন্ট থেকে। আপনি যদি
ক্রেডিট ব্যবহার করার পর অর্থাৎ লোন ব্যবহার করার পরে সেটা পরিশোধ করার
একটি ডেট থাকে আপনি যদি সেই ডেট ওভার করে ফেলেন বা পার করে ফেলেন তাহলে ব্যাংক
আপনার থেকে ৫০০ টাকা জরিমানা করবে। আপনি ক্রেডিতে যে কয়টা লিমিট নিয়েছেন
তার থেকে যদি বেশি খরচ করে ফেলেন তাহলে মান্থলি আপনাকে ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে
হবে। আপনার যদি ক্রেডিট কার্ডটি কোনভাবে হারিয়ে যায় বা ভেঙ্গে যায় যেটা
বা বিভিন্ন কারণে আপনি কার্ডটি ব্যবহার করতে পারতেছেন না সেই ক্ষেত্রে
কাটটি যদি রিপ্লেস বা পুনরায় নিতে চান তাহলে আপনাকে রিপ্লেস ফী হিসেবে
৪০০ টাকা
দিতে হবে। আপনি যদি এটিএম দেখে বা সিয়ারাম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন
করেন তাহলে আপনাকে ১৭০ টাকা ফ্রি দিতে হবে। আপনি যদি একবারে ১০ হাজার টাকা
বের করেন তাহলেও ১৭০ টাকা কাটবে আবার যদি ২০ হাজার টাকা বের করেন তাহলে আপনার
১৭০ টাকাই চার্জ কাটবে। এটা কিন্তু আপনার কোন দিনে হিসাবে না বা
টাকার উপর হিসাব করে না এটা হলো আপনার টাকা উত্তোলনের হিসাব করে ১৭০ টাকা চার্জ
কাটবে, আপনি যতবার তাকে উত্তোলন করবেন ততবার ১৭০ টাকা করে চার্জ কাটবে।
আপনি কত টাকা ক্যাশ আউট বা খরচ করতেছেন কত টাকা ডিপোজিট
করতেছেন আপনার কার্ডে কত টাকা আছে এইসব জানার জন্য আপনাকে এসএমএস করা হবে
এই এসএমএসের জন্য প্রতিবছর ২০০ টাকা চার্জ কেটে নিবে ব্যাংক
থেকে। ডুবলিকেট স্টেপমেন অর্থাৎ আপনি কত টাকা খরচ করেছেন কত টাকা আপনার
একাউন্টে আছে এসব কিছু জানার জন্য আপনি যদি ব্যাংক থেকে একটি স্টেটমেন্ট নেন
তাহলে ৫০০ টাকা কেটে নেওয়া হবে। আপনি যতবার স্টেটমেন্ট দিবে ততবার ৫০০
টাকা করে কেটে নেওয়া হবে। আপনার ক্রেডিট কার্ড থেকে যদি ফান
ট্রান্সফার করবেন সেই টাকার উপর ০.৭০% অর্থাৎ ১ হাজারে আপনাকে ৭০ টাকা
চার্জ দিতে হবে। আপনি বিভিন্ন ই-কমার্স ওয়েবসাইটে কেনাকাটা অর্থাৎ
অনলাইনে কোন কিছু কেনাকাটা করলেন অথবা ফেসবুক বা ইউটিউব বুস্টিং এইসব ক্ষেত্রে
আপনার ট্রানজেকশন থেকে আপনি যেই টাকা পেমেন্ট করবেন অর্থাৎ বিল দিবেন সেই টাকা
থেকে ০.৫০% চার্জ কেটে নিবে। আপনি যদি কার্ডের পিন নাম্বারটি ভুলে যান
তাহলে নতুন পিন সেট করার জন্য আপনাকে ১০০ টাকা চার্জ দিতে হবে।
ইসলামী ব্যাংক সম্পর্কে
ইসলামী ব্যাংকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৮৩ সালে আব্দুর রাজ্জাক
লশকর প্রথম প্রতিষ্ঠাতা বা চেয়ারম্যান ছিলেন। ইসলামী ব্যাংকটি
একদিনে আজকের এই পজিশনে আসেনি ১৯৮৩ সাল থেকে আব্দুর রাজ্জাক লশকর এবং তার
সহকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে আজকে ইসলামী ব্যাংকটি এত জনপ্রিয় এবং
বিখ্যাত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।
প্রথম ইসলামী ব্যাংকটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম শরিয়াহ ভিত্তিক
বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ইসলামী ব্যাংক
সর্বপ্রথম দেশি বিদেশি উদ্যোক্তা মিলে ২৪ জন উদ্যোক্তা নিয়ে যাত্রা শুরু
করেছিল । তাদের মধ্যে ১৯ জন ছিল বাংলাদেশি উদ্যোক্তা এবং পাশাপাশি
বাংলাদেশ সরকার ও এতে ৫% শেয়ার নিয়ে উদ্যোগ হিসেবে অংশ নিয়েছিল।
শেষ কথাঃ লেখকের শেষ মন্তব্য
আপনার যদি এখনও কোন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার একটি ব্যাংক
অ্যাকাউন্ট থাকা জরুরি কারণ আপনার টাকা-পয়সা সোনা-দানা মুনা গুরুত্বপূর্ণ
ডকুমেন্ট বা কাগজপত্র যেমন জমি দলিল এসব নিরাপদে রাখার জন্য আপনার অবশ্যই একটি
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। তবে অবশ্যই সেটা বিশ্বস্ত ও নিরাপদ ব্যাংক হতে
হবে কারণ অনেক প্রতিষ্ঠানে আছে জালিয়াতি বা দুর্নীতি করে সাধারণ
মানুষের টাকা পয়সা নিয়ে হারিয়ে যায় ভুলেও এমন ভাবে পড়বেন না। আমি
পার্সোনালি বলবো আপনি যদি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে চান তাহলে অবশ্যই ইসলামী
ব্যাংকে একটি একাউন্ট খুলবে কারণ ইসলামী ব্যাংক এবং বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান। আর
ইসলামী ব্যাংক সম্পর্কে আর কোন কিছু তথ্য জানা থাকলে আপনি আপনার মূল্যবান
মন্তব্যটি কমেন্ট বক্সে লিখে জানাতে পারেন তাহলে আমরা আপনার কমেন্ট ধরে রিপ্লাই
দিয়ে জানিয়ে দিব অথবা আমাদের যোগাযোগ পেজে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন
।
আপডেট আইডি ২৪ এরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url