ঘুমের মধ্যে বোবা ধরে কেন

 

মানুষের মুখে যাকে বোবা বলে ত্রিশে বিজ্ঞানী থাকে স্লিম প্যারালাইসিস বলে। এটা এমন একটি রোগ যে মনের মধ্যে মানুষের মনে হয় হাত পা নাড়ানো চেষ্টা করতেছি কিন্তু পারতেছে না আমার কথা বোঝানোর চেষ্টা কোন কথা বলতে পারতেছে না। এটা কোন ভৌতিক বা অলৌকিক ঘটনা নয় বরং মস্তিষ্ক ও শরীরে পেশি সমন্বয়ে অল্প সময়ে ব্যাঘাত এর কারণে এমন মনে হয়। 

ঘুমের-মধ্যে-বোবা-ধরে-কেন


পোস্ট সুচিপত্র: ঘুমের মধ্যে বোবা ধরে কেন

কেন আমাদের বোবাই ধরে

আমাদের ঘুমের দুইটি ধাপ আছে প্রথম কি হলো মাত্র ঘুমাইছে বা হালকা ঘুম দ্বিতীয়টি হলো গভীর ঘুম। আমরা মূলত স্বপন দেখি এই গভীর ঘুমে এই সময় আমাদের মস্তিষ্ক শরীরকে নিরাপদ একটি পেশি গুলোকে অবশ করে রাখে। যাতে করে আমরা ঘুমের মধ্যে স্বপনে যা যা দেখতেছি আমাদের হাত ওইভাবে কাজ না করে। মূলত এই বোবাই ধরার সমস্যা হয় ঠিক তখনই আমাদের স্বপ্ন শেষ হওয়ার আগে বা স্বপ্ন থেকে বের হওয়ার আগ মুহূর্তে হঠাৎ মস্তিষ্ক জেগে উঠলে। শরীরের পেশি গুলো মূলত তখনও অবস থাকে ফলে আমরা জেগে থাকার কোন কথা বলতে বা হাত বা নড়াচাড়া করতে পারি না। 

এই বোবাই ধরার কারণ কি

  1. অনিমিত ঘুমানোর কারণে বা শরীরের ঠিকমতো ঘুম না হওয়ার কারণে।  আমাদের শরীরের পর্যাপ্ত ঘুমের জন্য আমাদের প্রতিদিন ৭-৮ ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন। 
  2. অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা মানসিক চাপ এর কারণে। 
  3. গবেষণায় দেখা গেছে সোজা চিৎ হয়ে ঘুমানোর ফলে এই সমস্যা বেশি হয় । 
  4. হঠাৎ করে আপনার ঘুমানোর সময় বদলে ফেললে ।
  5. ঘুমানো ঠিক আগে মোবাইল বা টিভি ব্যবহার কারনে ঘুম এর মান নষ্ট হয়ে যাওয়া

বোবাই ধরার থেকে বাঁচার উপায়

  1. চিত হয়ে ঘুমালে আমাদের শ্বাসনালির ওপর চাপ পড়ে এই কারণে বোবাই ধরার সময় সাথে হয়। তাই আপনি চিত হয়ে না ঘুমায় কাত হয়ে ঘুমাবেন।
  2. আমাদের শরীরে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে এই সমস্যাতে হয়। তাই প্রতিদিন অন্ততপক্ষে৭-৮ ঘন্টা ঘুমাবেন।
  3. ঘুমানোর অন্ততপক্ষে ১১-১.৫ ঘুমটা আগে ফোন বা ইলেকট্রনিক যে কোন জিনিস বন্ধ রাখুন
  4. অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা করা করবেন না। 
  5. ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত কোন খাবার থেকে বিরত থাকুন।

মস্তিষ্ক ও হরমোনের ভূমিকা

আমাদের মস্তিষ্ক ঘুমানো অবস্থায় যেন আমরা স্বপন এর সাথে বাস্তবে থাকবা নাড়াচাড়া না করিয়।  এর জন্য আমাদের মস্তিষ্ক  "GABA"& "GLYCINE" এই দুইটা জিনিস আমাদের রাসায়নিক নির্গত করে।
 এই কারণে এগুলোকে সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়া ব্লক করে দেয়। ক্লিক প্যারালাইসিস বা বোবাই ধরা সময় আমাদের ঘুম ভেঙ্গে গেলে বা মস্তিষ্ক কাজ করতে লাগলেও আমাদের শরীরে কোন কিছুই কাজ করে না। 

স্লিপ প্যারালাইসিস বা বোবাই ধরার এর প্রধান তিনটি রূপ

আমাদের যখন স্লিপ প্যারালাইসিস বা বোবাই ধরে তখন আমাদের সাথে মূলত তিন ধরনের ভৌতিক বা অলৌকিক ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়।
স্লিপ-প্যারালাইসিস-বা-বোবাই-ধরার-এর-প্রধান-তিনটি-রূপস্লিপ-প্যারালাইসিস-বা-বোবাই-ধরার-এর-প্রধান-তিনটি-রূপ


  1. এ সময় আমাদের মনে হবে ঘরের মধ্যে বা আশেপাশে ক্ষতিকর কোন ছায়া দাঁড়িয়ে আছে।
  2. এই সময় আমাদের মনে হবে আমাদের বুকের উপর কোন ভারী কিছু বসে আছে আর আমরা শ্বাস নিতে পারতেছি না।
  3. এই সময় আরো মনে হয় আমাদের শরীর শূন্যে ভাসছে বিছানা থেকে পড়ে যাচ্ছি আবার আমাদের শরীর থেকে আত্মা বের হয়ে যাচ্ছে এমন কিছু ঘটনা ঘটে। 

এই সময় আপনি যা করবেন

স্লিপ প্যারালাইসিস বা বোবাই ধরার সময় চলাকালীন সমস্ত শরীর অবশ হলেও আমাদের চোখের মনি এবং মুখের হালকা পেশি তখনও কাজ করে। তাই তখন দ্রুত আপনার চোখের মনি এই পাশ ওই পাশ করার চেষ্টা করবেন এবং মুখে জিব্বা নাড়াচাড়ার চেষ্টা করবেন। ফলে আপনার মস্তিষ্ক তাড়াতাড়ি কাজ করতে শুরু করবে। শ্বাসনালী বা গলার মাধ্যমে ছোট ছোট চিৎকার বা এসিড দেওয়ার চেষ্টা করবেন তাহলে আপনার মস্তিষ্ক তাড়াতাড়ি কাজ করবে। আর আপনার মস্তিষ্ক একবার সম্পূর্ণ কাজ করতে লাগলে বোবায় ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিস থাকবে না। 

রাতের খাদ্যবাস পরিবর্তন করুন

যাতে ঘুমানোর সময় অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার বা আলকমন গ্রহণ করবেন না। আর এগুলা যদি করেন তাহলে আপনার গভীর ঘুমের যে চক্র সেটা নষ্ট হয়ে যায় ফলে বোবায় ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিস হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি হয়ে যায়।
 এই স্লিপ প্যারালাইসিস বা বোবাই ধরা ঝুঁকি থাকে। তাই আপনি শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করবেন আর ঘুমানোর আগে ইলেকট্রনিক কোন জিনিস অন্ততপক্ষে ১ ঘন্টা আগে বন্ধ করে রাখবেন। 

কখন ডাক্তার দেখাবেন

বোবাই ধরা বা স্লিপপ্যারালাইসিস সাধারণত আপনার কোনো মারাত্মক ক্ষতি করে না। তবে নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। 
  1. সপ্তাহে একাধিকবার বোবাই ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিস হয় তাহলে।
  2. এই বোবাই ধরার কারণে আপনি যদি রাতে ঘুমাতে ভয় পান বা মানসিক চাপে ভোগেন।
  3. রাতে আপনার শরীরে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার কারণে আপনি দিনের বেলা কোন কাজ করতে পারতেছেন না বা মন বসে না।
  4. আপনি দিনে স্বাভাবিক কাজ করতে করতে বা হাটাহাটি করতে করতে হঠাৎ করে মারাত্মক চোখে ঘুম চলে আসে বা ঘুমিয়ে পড়া। 
  5. হঠাৎ করে আপনার শরীরের পেশি খুব পাতলা হয়ে যায় এবং আপনি আপনার শরীরের সমস্ত শক্তি হারিয়ে ফেলেন । 
  6. আপনার ঘুমের মধ্যে শ্বাস আটকে যায় ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া বা নাক দেখা ঘুম থেকে উঠে তীব্র মাথা ব্যাথা হলে। 

ডাক্তার দেখানোর আগে যাটা করবেন

আপনার স্লিপ প্যারালাইসিস বা বোবায় ধরার জন্য ডাক্তার দেখানোর অন্ততপক্ষে  ১-২ সপ্তাহ একটি ডাইরি বানান এবং তাতে লিখুন 
  1. আপনার কখন ঘুম পাচ্ছে। 
  2. রাতে কতবার বোবাই ধরল বা স্লিপ প্যারালাইসিস হলো
  3. আপনার যখন বোবাই ধরল বা স্লিপ প্যারালাইসিস হচ্ছিল ওই সময় আপনার অনুভূতি কেমন ছিল
  4. তারপর আপনার ঘুম কখন ভেঙে গেছে
  5. আপনার খাবার গ্রহণ মোবাইল বা ইলেকট্রনিক জিনিসের ব্যবহারের সময় বর্তমান মানসিক চাপের মাত্রা ডাইরিতে লিখে রাখুন
এগুলা দেখে ডাক্তার সহজে বুঝতে পারবে আপনার কোন জটিল মানসিক চাপের কারণে হচ্ছে না কোন সাধারণ মানসিক চাপের কারণে হচ্ছে এই স্লিপ প্যারালাইসিস বা বোবায় ধরার সমস্যা। 

লেখকের শেষ মন্তব্য

আপনার যদি এই বোবাই ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিস সমস্যাটি হয়। এবং সেটা নিয়ে যদি আপনি টেনশন বা মানসিক চাপে থাকেন তাহলে আর মানসিক চাপ টেনশন করবেন না এর ফলে সমস্যাটা আরো বেড়ে যেতে পারে আমি যেভাবে বললাম। আপনি এগুলো যদি সঠিকভাবে মেনে চলেন তাহলে আশা করি আপনার আর ডাক্তার দেখানোর প্রয়োজন হবে না। আমার এই নিয়ম মেনে চললে আপনার এই বোবাই ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিস রোগটি ভালো হয়ে যাবে। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপডেট আইডি ২৪ এরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url