২০২৬ সালের দুর্গাপূজা সময়সূচী

 

 পূজার দিন  

তারিখ (ইংরেজি) 

 তারিখ (বাংলা)

 দিন

 মহালয়া

১০ অক্টোবর ২০২৬ 

 ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ 

শনিবার 

 মহাষষ্ঠী

 ১৬ অক্টোবর ২০২৬ 

 ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

 শুক্রবার

 মহা সপ্তমী (প্রথম দিন)

 ১৭ অক্টোবর ২০২৬

 ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

 শনিবার

 মহা সপ্তমী (দ্বিতীয় দিন) 

 ১৮ অক্টোবর ২০২৬

 ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ 

 রবিবার

 মহা অষ্টমী

 ১৯ অক্টোবর ২০২৬

০১ কার্তিক ১৪৩৩ 

 সোমবার

 মহা নবমী

 ২০ অক্টোবর ২০২৬

 ০২ কার্তিক ১৪৩৩

 মঙ্গলবার

 বিজয়া দশমী

 ২১ অক্টোবর ২০২৬

 ০৩ কার্তিক ১৪৩৩

 বুধবার



  
২০২৬-সালের-দুর্গাপূজা-সময়সূচী


 পোস্ট সুচিপত্র: ২০২৬ সালের দুর্গাপূজা সময়সূচী
মহালয়া দিনটি বাঙালির কাছে শারদোৎসবের আগাম বার্তা নিয়ে আসে। পিতৃপক্ষের অমাবস্যার তিথিতে বংশের পূর্বপুরুষদের সমন্বয়ে জলে অন্যদান করার প্রাচীন ধর্মীয় বিধান রয়েছে। ভোরের আলো ভোটার আগেই রেডিও বা টিভির মাধ্যমে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠে মহিষাসুর বদের নন্দিনী সোনার বাঙালির এক বিশেষ আবেগ ও ঐতিহ্য জড়িয়ে থাকে। চণ্ডী পাঠের সুর, কাশফুল, মেঘলা আকাশ আর শিউলির গন্ধে মা দুর্গার আগমনী শিহরণ শুরু হয়ে যায় এই মহালয়ার ভরে। শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী মহালয়া ঠিক পরেই দেবী বক্ষ শুরু হলেও তিথির সময়ে এইদিক থেকে ওই দিক  হওয়ার কারণে এক এক বছর মহালয়া ও মহাষষ্ঠীর ব্যবধান একটু কম বেশি হয়। 

মহাষষ্ঠী ২০২৬

আমাদের দুর্গাপূজার উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় এই মহাষষ্ঠীর তিথিতে। শাস্ত্র অনুযায়ী মহাষষ্ঠীর সন্ধ্যাবেলা বেল পাতায় দেবী দুর্গার বদন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস সম্পূর্ণ হয় এবং মা দুর্গা মরতে জাগ্রত হন আর পূজা শুরু হয়। ষষ্ঠীর সকালে অনুষ্ঠানিকভাবে পূজা সূচনাকে কল্পারম্ভ বলা হয়।
দেবী-দুর্গার-চোখ-উন্মোচন-বা-চক্ষুদান


ষষ্ঠী তিথি সন্তানের দীর্ঘায়ু ও সুরক্ষার প্রতীক তাই অনেক মা এই তিথিতে তার সন্তানের সার্বিক মঙ্গলের জন্য ব্রত রাখেন। দেবী দুর্গার চোখ উন্মোচন বা চক্ষুদান শেষ করে এই দিনের মন্ডপে মন্ডপে মায়ের রূপ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

মহা সপ্তমী(প্রথম দিন) ২০২৬

পঞ্জিকা মতে ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর শেষভাগে মহা সপ্তমীর সূচনা হবে। তাই একে মহা সপ্তমীর প্রথম দিন হিসেবে গন্য করা হচ্ছে।  এই দিনের ভোরবেলা নবপত্রিকা প্রবেশ ও মহা সপ্তমীর পূজা শুরু হবে অধিকাংশ সর্বজনীন পূজা ও ক্যালেন্ডার ক্যালেন্ডার এ ১৮ অক্টোবর তিনদিকে মহা সপ্তমীর প্রধান দিন হিসেবে পালন করা হবে। 

মহা সপ্তমী(দ্বিতীয় দিন)

২০২৬ সালের দূর্গা পূজার তিথির সমাবর্তন এর কারণে মহা সপ্তমী উৎসবটি এই বছর দুই দিন হবে।
পঞ্জিকা মতে ১৮ অক্টোবর দ্বিতীয় দিন মহা সপ্তমীর মূল দিন হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। যেহেতু ১৭ অক্টোবর বিকেলে/ সন্ধ্যায় সপ্তমী তিথি সূচনা ঘটছে তাই ১৮ অক্টোবর দিনভর পূর্ণাঙ্গ সপ্তমী তিথি থাকবে এবং সকালের প্রধান পুষ্পাঞ্জলি ও বিহিত পূজার এই দিনে সম্পন্ন হবে। 
সকালে ভক্তদের মহা সপ্তমীর অঞ্জলি প্রধান ও সন্ধ্যায় আরতির মাধ্যমে মন্ডপে মন্ডপে দর্শনার্থীর ডল নামে । ষষ্ঠী বোধনের পর সপ্তমীর এই দিনটিতেই মূলত সর্বজনীন মন্ডপগুলো দর্শনার্থীদের জন্য পুরোপুরি জমজ হয়ে ওঠে।

মহাঅষ্টমী২০২৬ 

দূর্গা পূজার পুরো দিন গুলোর মধ্যে মহা অষ্টমীর ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ ও ভক্তদের আবেগ সব থেকে বেশি জড়িয়ে থাকে এই মহা অষ্টমীর দিনে। অষ্টমীর সকাল থেকেই ১ থেকে১৬ বয়সী ছোট কন্যা শিশুকে জয়ন্তী দেবী দুর্গা রূপ ধরে পূজা করা হয়। 
কুমারী-পূজা-করা-হচ্ছে


রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন সহ অনেক ঐতিহ্যবাহী মন্ডপে এই কুমারী পুজো দেখতে প্রচুর মানুষের আগমন ঘটে। অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমি তিথির প্রথম ২৪ মিনিট এই মোর মিলিয়ে ৪৮ মিনিট সময়কে বলা হয় সন্ধিক্ষণ। শাস্ত্র মতে এই সন্ধিক্ষণ এই দেবী দুর্গা চামুন্ডা রুম ধারণ করে চণ্ড ও মুণ্ড অসুরকে বধ করেছিলেন। এই সময়ে ১০৮ টি প্রদীপ জ্বালিয়ে এবং ১০৮ টি পদ্মফুল দিয়ে মা দুর্গার বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

মহানবমী২০২৬ 

মহানবমী অনুষ্ঠিত হবে ২০ শে অক্টোবর তবে পঞ্জিকা মতে সূর্যোদয় তিথি ও সঙ্গী পূজার সময়সূচী ভেদে ১৯ অক্টোবরে বিগত রাতের শেষভাগ থেকে ২০ এ অক্টোবরের মধ্যে মহানবমীর মূল বিহিত পূজা শুরু হবে। 
জয়লাভ করেছিলেন। তাই এই দিনটি আদি শক্তির চরম বিজয়ের প্রতীক। নবমীর সকালের দেবীর বিশেষ বলি দানের পর হোম- যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়। এই দিনে মণ্ডপের মন্ডপের দেবীকে বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হয় এবং ভক্তদের মধ্যে তা বিতরণ করা হয়। বিজয়া দশমিক আগের দিন হওয়ায় মহা আরতি ও ধুনুচি নাচের মাধ্যমে মন্ডপে মন্ডপে ভক্তদের আনন্দ দেখা যায়।

বিজয়া দশমী২০২৬

দশমীর সকালে বিবাহিত নারীরা দেবীকে মিষ্টি মুখ ঘুরিয়ে পান পাতা দিয়ে বরণ করে নেয়। এরপর শুরু হয় বাঙালির ঐতিবাহী সিঁদুর খেলা যেখানে মা মাটি ছেড়ে চলে যাওয়ার লক্ষ্মীরের মাঝেও অশুভ শক্তি বিনাশের আনন্দে উদ্ভাসিত হয়। আসছে বছর আবার হবে এই ধোনির মাধ্যমে অশ্রু জল চোখে রেখে গঙ্গা জলে মাকে বিসর্জন দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যমতে এই দিনেই দেবীর ম মত্ত ছেরে কৈলাসে বাবা মহাদেবের কাছে ফিরে যান। বিসর্জনের পর শুরু হয় শুভেচ্ছা বিনিময় ছোটরা জ্যেষ্ঠদের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ নেয় সমবয়সীদের মধ্যে হয় কোলাকুলি ও মিষ্টি মুখ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপডেট আইডি ২৪ এরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url