গর্ভাবস্থায় প্রথম ৩ মাসের সতর্কতা



গর্ব অবস্থায় প্রথম তিন মাস একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্পর্শকাতর একটি সময়। এটি১ থেকে২ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। গর্ভাবস্থায় প্রথম ৩ মাসে গর্ব অবস্থায় ভ্রুনের বিভিন্ন অঙ্গ তৈরি হতে থাকে( হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক , মেরুদন্ড, হাত-পা। যেহেতু এই সময়ে গর্ভে থাকা ভ্রুনটি নিজের স্থায়ী অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিষ্ঠিত করে তাই এই সময় ভ্রুন নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। তাই গর্ভবতী মাকে এই সময়টায় সন্তানের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাস প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন খাবারের তালিকা মেনে চলবেন।


পোস্ট সুচিপত্র: গর্ভাবস্থায় প্রথম ৩ মাসের সতর্কতা


শারীরিক সতর্কতা ও নিয়ম নীতি

কোন ভারী কাজ করবেন না বা কোন ভারী জিনিস উঠানোর চেষ্টা করবেন না কিংবা আসবাবপত্র টানাটানি বেশিতে চাপ পড়ে এমন কোন কাজ করবেন না এতে বর্গপাতের অনেক ঝুঁকি বেড়ে যায়। দীর্ঘ ভ্রমন করবেন না বিযুক্ত গাড়িতে চড়বেন না উদাহরণঃ ভাঙার রাস্তায় অটো ,রিক্সায় বা সিএনজি চড়ে চলাফেরা করবেন না। ঘন ঘন সিঁড়ি ব্যবহার করবেন না অতিরিক্ত প্রয়োজনে ধীরগতিতে কোন সাপোর্ট নিয়ে সিঁড়ি ব্যবহার করবেন। বিছানা থেকে উঠার সময় হঠাৎ সোজাসুজি না উঠে যেকোনো একদিকে কাজ হয়ে উঠবেন। ঝুঁকে কোন কাজ করা বা এমন কোন কাজ করবেন না যেখানে পেটে চাপ লাগে।

প্রথম তিন মাসের পুষ্টি খাদ্যবাস

এই সময় এই সময় অনেক মায়েরই বমি বমি ভাব সে সবারই বলেছি দেখা দেয়। তবু আপনার ভ্রুনের সুস্থ সঠিক বিকাশের কারণে আপনাকে খাবার তো খেতে হবেই তবে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।
  1. খাবারে যেসব উপস্থিতি থাকে
  2. যে কারণে খাবার প্রয়োজন
  3. পুষ্টির সেরা উৎসব
  4. ফোলিক এসিড
  5. শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ু নালীর ত্রুটি রোধ করার জন্য
  6. পালং শাক, ডাল, বাদাম, চিকিৎসকের দেওয়া ট্যাবলেট।
  7. আইরন বা ভিটামিন সি
  8. রক্তস্বল্পতা দূর করতে এবং শিশুর রক্তনালী প্রস্তুত বা তৈরি করতে
  9. লাল মাংস, ডিমের কুসুম, পেয়ারা,, লেবু, খেজুর, ইত্যাদি।
  10. ক্যালসিয়াম
  11. শিশুর হার ও দাঁত গঠনের জন্য
  12. দুধ ,দই, সানা, বিভিন্ন ধরনের ছোট মাছ।
  13. প্রোটিন
  14. ভ্রুনের কোষ ও বিভিন্ন কলা গঠনের জন্য
  15. মাছ, ডিম , মুরগির মাংস, মসুর ডাল।

যেইসব খাবারগুলো একদম খাবেন না

গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাসের কিছু খাবার ভ্রণের ক্ষতি করতে পারে তাই এমন খাবার থেকে বিরত থাকবেন। যেসব খাবার ভ্রণের ক্ষতি করতে পারে তা হলঃ-
কাঁচা পেঁপে ও আনারস কাঁচা পেঁপেতে থাকা ল্যাটেক্স এবং আমেনা বসে থাকা ব্রোমেলেন জরায়ু সংকোচন ঘটিয়ে গর্ভপাত করতে পারে। কাঁচা বা আশিদ্ধ ডিম বা মাংস খাবার খাবেন না শালমনেলা , ই-কলাই, আরো অনেক বিপদজন ক ব্যাকটেরিয়া থাকে যা গর্ভের সন্তানের চরম ক্ষতি করে । অপাস্তুরিত দুধ বা পানি খাবেন না। সাধারণ বাংলা ভাষায় পাস্তুরিত বলতে বুঝায়ঃ- দুধকে ৭০-৭২° তাপমাত্রায় 15 সেকেন্ড গরম করে সাথে সাথে ঠান্ডা করা হয় এতে খারাপ ব্যাকটেরিয়া মরে যায়, কিন্তু পুষ্টি ঠিক থাকে।

ঔষধ গ্রহন ও শারীরিক পরীক্ষা

কোন ঔষধ বা মেডিসিন ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া একদম খাবেন না সেটাও হতে পারে জ্বর বা কাশি যে কোন ঔষধ বা মেডিসিন খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। অনেক ঔষধ খাওয়ার ফলে ভ্রনের জন্মগত ত্রুটি বা রোগ হতে পারে তাই যে কোন মেডিসিন ঔষধ খাওয়া লাগে ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। সাধারণত৭-৯ সপ্তাহের মধ্যে প্রথম আলট্রাসন করা হয় এর মাধ্যমে বুঝা যায় ভ্রণের উপস্থিতি, হৃদস্পন্দন সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়। হিমোগ্লোবিন, রক্তের গ্রুপ, ডায়বেটিস এবং প্রস্রাবের ইনফেকশন আছে কিনা সেটা ডাক্তার দেখানোর সময় পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।

জরুরী বিপদ চিহ্ন

যোনিপথে রক্তপাত এডি গর্ভপাতের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
তীব্র তলপেটে ব্যথা বা পেটের একপাশে মোচড়ানো ব্যথা।
একদিনে একাধিকবার বমি ভাব পানি শূন্যতা তৈরি হওয়া।
অতিরিক্ত বেশি জ্বর আসা।
প্রসাবে জ্বালাপোড়া বা তীব্র গন্ধ।
এই সবে যে কোন একটি লক্ষণ দেখা দিলে কোন প্রকার সময় নষ্ট না করে দ্রুত আপনার পাশের হাসপাতালে যায়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।

ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ও সহবাস সংক্রান্ত সর্তকতা

গর্ভাবস্থায় প্রস্রাবের ইনফেকশন হওয়া খুবই স্বাভাবিক তবে ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখবেন। এবং সুতির ঢিলা-ঢোলা কাপড় ব্যবহার করবেন এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করবেন। গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাস চিকিৎসকরা সাধারণত সহবাস থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকে। শেষ করে যাদের পূর্বে গর্ভপাত যে বা ফুল নিচে রয়েছে তাদের জন্য এটি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। চুল কালার তীব্র কেমিক্যাল যুক্ত ডিউটি প্রোডাক্ট বা ঘরের কীটনাশক স্পর্শ থেকে দূরে থাকবেন।

মানসিক স্বাস্থ্য ও ঘুম

গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাস হরমোনের ব্যাপক পরিবর্তনের কারনে মুড সুইং বা অতিরিক্ত ক্লান্তি, ভয় বা বিষন্নতা দেখা দিতে পারে।

বিনে অন্তত ৯-১০ ঘন্টা প্রফুল্ল ও চিন্তা মুক্ত ঘুমাবেন।
দুপুরবেলা ২-৩ ঘন্টা বিশ্রাম নিবেন।
স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের উচিত গর্ভবতী মায়ের প্রতি বিশেষ যত্ন ও দেখাশোনা করা।
গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাস যত সতর্ক হয়ে চলতে পারবেন ততই আপনার এবং আপনার গর্ভে থাকা শিশুর জন্য অনেক বেশি ভালো হয়। সঠিক খাদ্যভাস,বিশ্রাম এবং চিকিৎসরের সাথে সার্বক্ষণিক পরামর্শ নিরাপদ ও সার্বক্ষণিক সুন্দর একটা সাহায্য করে।

ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যে ও বাথরুম ব্যবহারের সর্তকতা

নিচু বা ভারতীয় অনুভূতির শৌচাগার ব্যবহার করার জন্য উঠান আমার সময় পিট ও হাটুতে অতিরিক্ত চাপ পরে। তাই সম্ভব হলে হাইকমোড ব্যবহার করবেন সাধারণ কমন হলে পাশে ধরে ওঠার জন্য একটি স্থাপন রাখুন। বাথরুমের মেঝে যেন সব সময় শুকনো ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে। অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে দীর্ঘক্ষণ গোসল করা বা ব্যবহার করবেন না। এটি মায়ের শরীরের তাপমাত্রা বাইরে ভ্রণের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

শেষ কথাঃ লেখকের শেষ মন্তব্য

আপনি যদি গর্ভবতী হন বা সন্তান নেওয়ার কথা ভাবতেছেন তাহলে আমি এতক্ষণ যা যা বললাম এবং আপনি যা যা পড়লেন এইসব নিয়ম মেনে চলবেন। তাহলে অবশ্যই আপনি আপনার সন্তানকে সুস্থভাবে জন্ম দিতে পারবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপডেট আইডি ২৪ এরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url