চর্মরোগে নিম পাতার সঠিক ব্যবহারে 20 দিনে
প্রাচীনকাল থেকে নিমগাছকে ঔষধি গাছ হিসেবে বিদেশি তো করা হইছে। নিমগাছে
যদি সঠিক ব্যবহার করা হয় তাহলে আমাদের কোন প্রকার অসুখী হবে না। তার মানে
যে এই না আপনার বাসা বাড়ি আশেপাশে নিম গাছ আছে বলে আপনার কোন রোগ বালাই হবে
না বিষয়টা এমন না আপনাকে আগে নিম পাতার সঠিক ব্যবহার করতে জানতে হবে।
আজকে আমরা নিমপাতার সঠিক ব্যবহার ও কি কি গুনাগুন আগে সে সম্পর্কে আলোচনা করব।
আপনি যদি নিম পাতার সঠিক ব্যবহার এবং এর গুনাগুন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান
তাহলে আমাদের আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন আজকে আমরা নিমপাতা সকল বিষয়ে জানব।
পোস্ট সুচিপত্র: চর্মরোগে নিম পাতার সঠিক ব্যবহার
- চর্মরোগে নিম পাতার ব্যবহার
- সঠিক নিয়মে নিমপাতার রস করে ব্যবহার করা
- নিম পাতার উপকারিতা
- নিম পাতার অপকারিতা
-
খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয়
-
নিমপাতা ব্যবহারে যেগুলো একদম করা যাবে না
-
শেষ কথাঃ লেখকের শেষ মন্তব্য
চর্ম রোগে নিম পাতার ব্যবহার
নিম গাছ প্রাচীনকাল থেকেই একটি শক্তিশালী ঔষধি উদ্ভিদ হিসেবে
পরিচিত। আপনার বাসার আশেপাশে নিমগাছ আছে মানে আপনার কোন অসুখ হবে না বিষয়টা
আমার না। আপনাকে আগে সঠিক নিয়মে নিমপাতা ব্যবহার জানতে হবে। প্রথমে নিম গাছ
থেকে নতুন পাতা বাসায় নিয়ে আসবেন।
তারপর পাতাগুলো ভালো করে রস করে সাথে সামান্য হলুদ ভালো করে
মিশিয়ে আপনার যেখানে চর্ম রোগ হয়েছে । ওখানে ৩০-৪০ মিনিট
চর্মরোগ যেখানে হয়েছে ওখানে লাগিয়ে রাখবেন তারপরে হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল
করে ফেলবেন। এইভাবে নিয়মিত কয়েকদিন ব্যবহার করবেন তারপরে দেখবেন আপনার
চর্মরোগ একবার ভালো হয়েছে।
সঠিক নিয়মে নিম পাতার রস করে ব্যবহার করা
আপনি যদি সঠিক নিয়মে নিম পাতার রস ব্যবহার করতে না পারেন তাহলে আপনার কোন
রোগই ভালো হবে না। আগে সঠিক নিয়ম পাতার রস বের করতে জানতে হবে
এবং তা সঠিক নিয়মে ব্যবহার করা জানতে হবে। প্রথমে আপনাকে গাছ থেকে কয়েকটি
নিমপাতা নতুন দেখে নিয়ে আনতে আনবেন।
এরপর ভালো করে পরিষ্কার করে নিবেন যেন কোন ময়লা বা জীবাণু না থাকে। তারপর একটি
পরিস্কার পাত্রে পাতাগুলো কুচি কুচি করে কেটে নেবেন সাথে একটু হলুদ দিয়ে বেটে রস
বের করে নিবেন। তারপর গোসল করার অন্তত ৩০-৪০ মিনিট আগে চর্ম রোগে
ব্যবহার করবেন তারপর গোসল করার সময় হালকা গরম পানি দিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করে
নিবেন। এইভাবে কয়েকদিন ব্যবহার করলে আপনার সম্বন্ধ ভালো হয়ে যাবে। তবে মাথায়
রাখবেন নিমপাতা গুলো যেন প্রতিদিন তাজা হয়নি মানে একদিন নিয়ে আসে কয়েকদিন
ব্যবহার করবেন না প্রতিদিন গাছ থেকে নিয়ে আসে ব্যবহার করবেন।
নিম পাতার উপকারিতা
প্রাচীনকাল থেকেই নিম গাছকে প্রধান ঔষধি গাছ হিসেবে গণ্য করা হয়। কারণ সঠিক
নিয়মে নিম পাতা ব্যবহার করতে পারলে আপনার শরীরের৯৯% রোগ ভালো হয়ে
যাবে। সঠিক নিয়মে নিমপাতা ব্যবহার করতে পারলে আমাদের ব্রণ, চুলের সমস্যা
ভালো হয়ে যাবেএবং আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়।
ব্রোনের জন্য নিম পাতার ব্যবহারঃ তাজা নিম পাতা ১৫-২০টি ভালো করে
পরিষ্কার করে নিয়ে একটি পরিষ্কার পাত্রে হলুদ সামান্য হলুদ দিয়ে পাতাগুলো
ভালো করে বেটে নিবেন। এবং ব্রণের উপরে ২০-২৫ মিনিট লাগিয়ে রাখবেন
তারপর ঠান্ডা পানিতে ভালো করে পরিষ্কার করে নিবেন। নিম পাতা বেটে হলুদের গুলোর
সাথে একটুখানি লেবু কেটে কয়েক ফোটা দিয়ে নিবেন তারপর ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে
মুখে লাগিয়ে রাখবেন ২০-২৫ মিনিট ভালো করে দোলে পরিষ্কার করবেন এতে অতিরিক্ত
যে দাগ থাকে ও তার থাকবে না।
আরো পড়ুনঃ ৭ দিনে ব্রণ দূর করার উপায়
বিভিন্ন রোগের জন্য নিম পাতা ব্যবহারঃ আপনার শরীরে যদি চুলকানি
বা অ্যালার্জি, ঘামাচির মত সমস্যা থাকে তাহলে নিম পাতার রস হালকা গরম
পানির সঙ্গে মিশিয়ে গোসল করে নিবেন। তাহলে আপনার এইসব রোগ ভালো হয়ে
যাবে এবং আর হবে না নিয়মিত ব্যবহার করলে।
চুলের জন্য নিম পাতা ব্যবহারঃ আপনার চুল পড়ে যাচ্ছে বা চুলে
যদি খুস্কি থাকে বা চুল ঘন আর সিল্কি করতে চান তাহলে নিম
পাতা পুর পানিতে ফুটিয়ে নেওয়ার পর পানি ঠান্ডা করে। মাথায় শ্যাম্পু
করে নেওয়ার পরে নিম পাতা ধোয়া পানিতে দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলবেন। এবং নিম
পাতা বেটে নিয়ে দই মিশিয়ে ৪০ চুলে মিনিট লাগিয়ে রাখলে আপনার চুলের
গুড়া মজবুত এবং সিল্কি হয়।
আরো পড়ুনঃ চুল পড়া কমানোর সহজ ও প্রকৃতি উপায়
নিম পাতার উপকারিতা
কোন জিনিসই পরিমাণে সেবা নিয়ম না মেনে ব্যবহার করলে তা আমাদের উপকারের জাগাত
ক্ষতি করে। ঠিক তেমনি নিম পাতা ও যদি সঠিক নিয়মে ব্যবহার করা না হয়
বা পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত ব্যবহার করলে আমাদের বিভিন্ন ক্ষতি হতে
পারে।
তোকে অতিরিক্ত ব্যবহারে এলার্জিঃ যদি আপনার ত্বকে বা
মুখমণ্ডলে পরিমাণে চেয়ে বেশি ব্যবহার করে ফেলেন বা দিনের একটু পর পর
নিম পাতার রস ব্যবহার করেন তাহলে তো খুব বেশি শুষ্ক হয়ে যেতে পারে এবং
কারো কারো ক্ষেত্রে চুলকানি বা জ্বালাপোড়া হতে পারে তাই নিয়ম এবং পরিমাণ
অনুযায়ী ব্যবহার করবেন।
বাচ্চাদের জন্যই ক্ষতিঃ ছোট বাচ্চাদ বা শিশুদের নিম পাতার
রস বা তেল সেবন করানো যাবে না। গুলি করান তাহলে শিশু বমি,
ডায়রিয়া, এমনকি মস্তিষ্কের ও ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
খালি পেটে নিমপাতার রস খেলে কি হয়
খালি পেটে নিমপাতার রস খেলে আমাদের শরীরের অনেক উপকার হবে। নিয়মিত যদি
সকালে খালি পেটে নিমপাতার রস খান তাহলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করবে এবং রক্তের
বিষাক্ত উপাদান মেরে ফেলবে রাখবে এবং রক্ত পরিষ্কার প্রত্যেকে সাহায্য
করবে। নিম পাতার রস রক্তে সুগারের মাত্রা দ্রুত কমিয়ে দেয় ডায়াবেটিস
রোগীদের উচিত নিয়মিত নিম পাতার রস খাওয়া।
পেটের ভিতরে বিষাক্ত পদার্থ মেরে ফেলে এবং আমাদের হজম শক্তি
বাড়ায়। যাদের মুখে ব্রণ আসে এবং চর্মরোগ আছে তাদের জন্য অনেক উপকারে করে
চর্মরোগ এবং ব্রণ ভালো করতে। যাদের ব্রণ আছে তারা এবং চর্মরোগ কি আছে তারা
নিয়মিত ঘুম থেকে উঠে নিম পাতার রস করে খেলে ১৫ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যাবে।
নিম পাতা ব্যবহারে যেগুলো একদম করা যাবে না
পাতা গাছ থেকে ছিড়ে এনে সাথে সাথে রস বের করে মুখে বা তোকে লাগানো যাবে না
পাতায় অনেক নোংরা বা জীবাণু থাকে এগুলা আমাদের ত্বকের অনেক ক্ষতি করে। আবার
রস মুখে বা ত্বকের লাগিয়ে সারারাত রাখবেন না বেশি কাজ হবে মনে
করে। এতে কোন কাজ হবেই না বরং বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে।
চোখের খুব কাছাকাছি নিম পাতার রস ব্যবহার করা যাবে না এতে চোখের অনেক ক্ষতি হতে
পারে।
নিম পাতা ত্বকে লাগিয়ে যেকোনো সাবান বা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করবেন না
বিশেষ করে ক্ষারযুক্ত করা সামান্য ফেসওয়াশ একদম ব্যবহার করবেন না। নিমপাতা
কাউকে লাগানোর সময় জুড়ে ঘষে লাগিয়ে দিবেন না। যাদের
অ্যালার্জি আছে তারা প্রথমবার একবারে বেশি করে লাগাবেন না খুব সামান্য পরিমাণ
মুখে লাগাবেন যদি আপনার ত্বক সহ্য করতে না পারে তাহলে হলে এতে
আপনার ত্বকের ক্ষতি হতে পারে তাই প্রথমবার অল্প করে লাগাবেন।
শেষ কথাঃ লেখকের শেষ মন্তব্য
প্রিয় পাঠক আশা করি আপনি আমাদের আর্টিকেল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ
দিয়ে পড়েছেন তাহলে অবশ্যই এখন জেনে গেছেন। চরমভাবে কিভাবে নিমপাতা ব্যবহার
করবেন এবং নিম পাতার অন্যান্য গুনাগুন বলি। এই বিষয়ে বা অন্য কোন বিষয়ে
যদি আরো কিছু জানার ইচ্ছা থাকে তাহলে আপনি আমাদের যোগাযোগ করতে পারেন বা আপনার
মূল্যবান মন্তব্যটি কমেন্ট বক্সে লিখে আমাদের জানাই দিতে পারেন।


আপডেট আইডি ২৪ এরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url